Electronics & Programming SufolDas 1 মিনিট 132

আর্ডুইনো কি? রোবট বানানো যায় এই ছোট বোর্ড দিয়ে

আর্ডুইনো কি? রোবট বানানো যায় এই ছোট বোর্ড দিয়ে

আমার ভাই একদিন একটা সবুজ রঙের ছোট বোর্ড নিয়ে আসলো। অনেক তার লাগানো। আমি ভাবলাম এইটা কি জিনিস। সে বললো এইটা দিয়ে রোবট বানাওয়া যায়! আমি তো অনেক অবাক হয়ে গেলাম। এইটা কইরে কিভাবে হয়।

তারপর আমি এই আর্ডুইনো জিনিসটা নিয়ে একটু জানার চেষ্টা করলাম। আমার কাছে মনে হয় এইটা অনেক মজার জিনিস।

আর্ডুইনো কি জিনিস

আর্ডুইনো হলো একটা ছোট বোর্ড। এইটাতে একটা ছোট চিপ লাগানো থাকে। এই চিপটাই আসলে সব কাজ করে। আমার মনে হয় এইটা অনেকটা আমাদের মাথার মতো। আমরা যেমন দেখি তারপর হাত নাড়াই এইটাও সেরকম করে।

আর্ডুইনো দিয়ে আপনি বলে দিতে পারবেন কি করতে হবে। মানে লাইট জ্বালাও, ফ্যান চালাও, দরজা খোলো। এইগুলো করা যায়। আমি দেখেছি এইটা আসলে দুইটা জিনিস মিলিয়ে তৈরি। একটা হলো ঐ সবুজ বোর্ড আর একটা হলো কম্পিউটারে একটা সফটওয়্যার থাকে। ঐ সফটওয়্যারে কোড লিখতে হয়।

২০০৫ সালে ইতালির কোনো এক স্কুলে এইটা বানানো হয়েছিল। Massimo Banzi নামে একজন মানুষ এইটা বানাইছেন। লক্ষ্য ছিল সবাই যেন ইলেকট্রনিক্স শিখতে পারে। ইন্জিনিয়ার না হলেও যেন পারে। আমার মনে হয় সেইটা ঠিকমতোই হইছে কারণ আমার মতো বাচ্চারাও এইটা বুঝতে পারছি।

আর্ডুইনো বোর্ডটা দেখতে কেমন

আমি প্রথমবার বোর্ডটা দেখে একটু ভয় পাইছিলাম। অনেক কিছু লাগানো। ছোট ছোট চিপ। আর পিন পিন জিনিস আছে। কিন্তু আসলে ভয়ের কিছু নাই।

বোর্ডের দুই পাশে অনেকগুলো ছোট ছোট ছিদ্র আছে। ওইগুলোকে পিন বলে। ওই পিনগুলোতে তার লাগাতে হয়। একদিকে সেন্সর লাগে আরেকদিকে লাইট বা মটর লাগানো যায়।

আর বোর্ডে একটা USB পোর্ট আছে। ওইটা দিয়ে কম্পিউটারে লাগানো যায় আর কোড পাঠানো যায়। এইটা জানার পর আমার কাছে আর ভয় লাগেনি। অনেক সহজ মনে হইছে।

কোন বোর্ড দিয়ে শুরু করবো

আর্ডুইনো অনেক রকম আছে। Uno, Mega, Nano, Mini আরো কি কি। আমি শুনেছি Arduino Uno দিয়ে শুরু করা ভালো। কারণ এইটা বড়। তাই বুঝতে সুবিধা হয়। আর ভুল হলেও নষ্ট হয় না সহজে।

আমার এক বন্ধু আছে রাফি। সে একটা Nano কিনছিল। কিন্তু তার অনেক সমস্যা হয়েছিল কারণ এইটা অনেক ছোট। তার লাগাতে পারেনি ভালো করে। তারপর সে Uno নিছে। এরপর অনেক ভালো করতে পারছে।

আর Uno-র আরেকটা ভালো ব্যাপার হলো ইন্টারনেটে অনেক টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। কোনো সমস্যা হলে সার্চ দিলেই পাওয়া যায়।

কোড লেখা কি কঠিন

আমার কাছে মনে হয়েছিল কোড লেখা অনেক কঠিন হবে। কিন্তু আসলে এত কঠিন না। আর্ডুইনোর কোড লেখা হয় C++ দিয়ে। কিন্তু এইটা অনেক সহজ করা হইছে।

কোডে দুইটা অংশ থাকে। একটা হলো setup() আর একটা হলো loop()। setup()-এ বলা হয় কোন পিন কি করবে। আর loop()-এ বারবার যা করতে হবে তা লেখা থাকে।

আমার ভাই একটা LED লাইট জ্বালানোর কোড লিখছিল। লাইট জ্বলছিল তারপর নিভছিল তারপর আবার জ্বলছিল। এইটা দেখে আমি অনেক অনেক খুশি হয়ে গেছিলাম! এই কাজটাকে Blink বলে। এইটাই নাকি সবার প্রথম প্রজেক্ট।

IDE মানে কি

আর্ডুইনোর একটা সফটওয়্যার আছে Arduino IDE নামে। এইটা ফ্রিতে পাওয়া যায়! পয়সা লাগে না। arduino.cc তে গেলে পাওয়া যায়।

এইটা ইনস্টল করতে হয়। তারপর USB দিয়ে বোর্ড লাগাতে হয়। তারপর কোড লিখে Upload দিলেই হয়। আমি দেখেছি অনেকে Port ঠিকমতো সিলেক্ট করে না তাই এরর আসে। ওইটা ঠিক করলেই হয়।

আর্ডুইনো দিয়ে কি কি করা যায়

এইটা হলো সবচেয়ে মজার প্রশ্ন! অনেক কিছু করা যায়। অনেক অনেক কিছু।

তালি দিলে লাইট জ্বলে এরকম বানানো যায়। আমার কাছে এইটা অনেক ভালো লাগছে। আর গাছে নিজে নিজে পানি দেওয়ার যন্ত্র বানানো যায়। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দেবে নাহলে দেবে না! এইটা তো অনেক দরকারী।

আর আছে ডাস্টবিন যেটা নিজে খুলে যায়। কাছে গেলে খুলবে। এইটা আমার বন্ধু রিয়াদ দেখছিল ইউটিউবে। সে বলছে এইটা বানাতে চায়। আর আছে ব্লুটুথ দিয়ে চলা ছোট গাড়ি। মোবাইল দিয়ে কন্ট্রোল করা যায়!

আর আবহাওয়া মাপার যন্ত্র বানানো যায়। তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা দেখায়। এইটা তো অনেক কাজের।

সেন্সর কি জিনিস

আর্ডুইনোতে অনেক রকম সেন্সর লাগানো যায়। প্রতিটা আলাদা কাজ করে।

DHT11 নামে একটা সেন্সর আছে। এইটা তাপমাত্রা মাপে। HC-SR04 দূরত্ব মাপে। PIR সেন্সর মানুষ চলাফেরা করলে বুঝতে পারে। LDR আলো মাপে। মাটি ভেজা না শুকনা বোঝার সেন্সরও আছে। আর ব্লুটুথ মডিউল দিয়ে ফোন থেকে কন্ট্রোল করা যায়।

এইগুলা সব দেখে আমার মাথা একটু ঘুরে গেছিল সত্যিকারের। এত কিছু আছে!

ভুলগুলা যেগুলো হয়

আমি দেখেছি নতুনরা কিছু ভুল বারবার করে। আমার মনে হয় এইগুলো জানা দরকার।

ব্রেডবোর্ড আছে একটা জিনিস। ওইটায় তার লাগানো হয়। ওইটা ঠিকমতো না বুঝলে কিছু কাজ করবে না। আর LED লাইট সরাসরি পিনে লাগালে পুড়ে যায়। মাঝখানে রেজিস্টর দিতে হয়।

আর গ্রাউন্ড ভুলে যায় অনেকে। আমিও একবার ভুলে গিয়েছিলাম। তারপর কিছুই কাজ করেনি। পরে বুঝলাম। আর ভুল ভোল্টেজ দিলে সেন্সর নষ্ট হয়।

শেষে বলি

আর্ডুইনো আমার কাছে অনেক অনেক মজার লাগছে। আমি মনে করি সবারই একটু শেখা উচিত। গরিব বাচ্চারা যারা অনেক দামি জিনিস কিনতে পারে না, তারাও আর্ডুইনো দিয়ে অনেক মজার জিনিস বানাতে পারবে কারণ এইটা অনেক সস্তা।

আমার ভাই এখন রোজ রোজ নতুন কিছু বানায়। আমিও শিখতে চাই। আমার মনে হয় বড় হলে এইদিয়ে অনেক কিছু করা যাবে। তাই আমাদের সবার উচিত আর্ডুইনো শেখা।