তালি দিলে লাইট জ্বলবে! আরডুইনো দিয়ে মজাদার Clap Switch Project

অ্যাই শোনো! আমি না একটা খুব মজার জিনিস বানাইছি। আম্মু সবসময় বলে এই লাইট বন্ধ কর এইটা কর ওটা কর। আমার তো অনেক আলসেমি লাগে বিছানা থেকে উঠতে। আর রাতে না অনেক অন্ধকার থাকে তখন মেঝেতে হোঁচট খেলে পা ব্যাথা হয় খুব! তখন মনে হয় যদি তালি দিলে লাইট বন্ধ হইতো কত ভালো হইতো না? আমি এইটা নিয়ে অনেক ভাবছি আর আমার বড় ভাইয়া আমাকে একটু সাহায্য করছে। ভাইয়া অনেক পন্ডিত সে সব জানে। ভাইয়াকে বলছিলাম যে ভাইয়া তালি দিলে লাইট অফ হবে এমন কিছু কি আছে? ভাইয়া বলল হ্যাঁ আছে। ওইটার নাম নাকি ক্লেপ সুইচ। আমি তো শুনেই লাফ দিছিলাম!
তালি দিলে লাইট জলে এটা কিভাবে হয়?
ভাইয়া বলছে এইটা নাকি ক্লেপ সুইচ পজেক্ট। আর আরডুইনো দিয়ে বানাতে হয়। আরডুইনো দেখতে একটা ছোট সবুজ বোর্ডের মতো অনেকগুলো তার লাগানো যায়। এইটা আসলে একটা মাথার মতো কাজ করে বুঝছো? মানে আমরা যেমন মাথা দিয়ে চিন্তা করি আরডুইনো তেমন চিন্তা করতে পারে। আমি যখন তালি দেই তখন একটা সেন্সর থাকে ওইটা শব্দটা শুনে নেয়। সেন্সরটা দেখতে অনেকটা ছোট মাইকের মতো! ওইটা তালি শুনলে আরডুইনোকে বলে যে এই শোনো তালি দিছে এখন লাইট জালাও। তারপর লাইট জ্বলে ওঠে! খুব মজা না? আমার বন্ধু তারিক আছে ও তো এইটা দেখে অবাক হয়ে গেছিল। ও এসে বারবার তালি দিচ্ছিল আর লাইট জলছিল আর নিভছিল। ভাইয়া রাগ করছিল কারণ বারবার করলে নাকি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আমার তো অনেক ভালো লাগে! তারিক তো ভাবছিল এটা জাদু। আমি বলছি না এটা জাদু না এটা সাইন্স!
আরেকটা মজার ব্যাপার আছে। একবার তালি দিলে কিন্তু লাইট জ্বলবে না। কারণ বাসায় অন্য আওয়াজ হলে তো লাইট ফালতু ফালতু জ্বলে উঠবে! যেমন আম্মু যখন রান্নাঘরে হাড়ি পাতিল রাখে তখন তো শব্দ হয়। তখন যদি লাইট জ্বলে ওঠে তাহলে তো মুশকিল! তাই আমি কোডে লিখছি দুইবার তালি দিতে হবে। টক টক করে দুইবার। তাহলেই লাইট কাজ করবে। টিভির আওয়াজে তাই আর লাইট জলে না। আমি এইটা আমার ঘরে লাগাইছি। এখন ঘুমানোর সময় জাস্ট দুইবার তালি দেই আর লাইট অফ হয়ে যায়! আম্মু তো প্রথমে বকা দিছিল বলছিল তারাতারি ঘুমাও কিন্তু পরে দেখে খুব খুশি হইছে। আমার বিড়ালটাও অবাক হয়ে লাইটের দিকে তাকায়ে থাকে।
কি কি লাগে এইটা বানাতে?
এইটা বানাতে খুব বেশি টাকা লাগে না। পেস্টেশন কিনতে তো অনেক টাকা লাগে কিন্তু এইটা সস্তা। দরাজ থেকে কেনা যায় সব। আমার ভাইয়া দরাজ থেকে আনিছে। ভাইয়া বলল যে এইগুলা কিনতে নাকি খুব বেশি খরচ হয় না। আমি আমার জমানো টাকা দিয়ে কিনছি।
- একটা আরডুইনো ইউনো বোর্ড (এইটা আসল জিনিস, একদম মেইন)
- সাউন্ড সেন্সর (যেটা কান দিয়ে শুনে, ছোট মাইক থাকে একটা)
- রিলে মডিউল (এইটার কাজ আমি ঠিক বুঝিনা কিন্তু ভাইয়া বলল এইটা সুইচ হিসেবে কাজ করে)
- অনেকগুলো রঙ বেরঙের তার (আমার লাল রঙের তার খুব ভালো লাগে)
- একটা বাল্ব আর হোল্ডার (নাহলে কি জ্বলবে বলো?)
আমার কাছে ওই লাল আর নীল তারগুলো খুব পছন্দ। দেখতে খুব সুন্দর লাগে। রিলেটা যখন কাজ করে তখন টাস টাস করে শব্দ হয়। ওই শব্দটা শুনতে আমার খুব ভালো লাগে! রিলেতে নাকি বিদুৎ থাকে তাই হাত দিতে মানা করছে ভাইয়া। আমি ভয়ে হাত দেই না। সাবধানে থাকতে হয় অনেক অনেক বেশি। কারেন্ট ধরলে তো খবর আছে! আব্বু বলছে কারেন্ট নিয়ে খেলা করা ভালো না। তাই আমি যখন কাজ করি ভাইয়া পাশে বসে থাকে।
আমি কিভাবে বানালাম সব?
প্রথমে তারগুলো সব লাগাতে হয়। সেন্সরের তিনটা পিন থাকে ওগুলো আরডুইনোর সাথে গুজে দিতে হয়। ভাইয়া বলছিল ৫ ভোল্টে লাগাতে হবে। ভুল করলে নাকি ধোয়া বের হবে! আমার তো খুব ভয় লাগছিল যদি ফেটে যায়! কিন্তু ফাটেনি। তারিক বলছিল ও একবার ভুল করে একটা জিনিস পুড়ায়ে ফেলছিল। আমি খুব সাবধানে করছি।
তারগুলো লাগানো হলে কম্পিউটারে বসে কিছু একটা লিখতে হয়। ওটাকে নাকি কোড বলে। আমি অত ভালো ইংরেজি পারিনা কিন্তু ভাইয়া আমাকে শিখায় দিছে। ওই কোডটা আরডুইনোর ভেতরে ঢুকায় দিতে হয় তার দিয়ে। কম্পিউটারে যখন আপলোড দিচ্ছিলাম তখন আমার হাত কাপছিল! তারপর তালি দিলেই কাজ শুরু! আমি প্রথমে যখন তালি দিলাম তখন লাইট জলল না। আমি খুব মন খারাপ করছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি পারব না। আমার কান্না আসছিল। তারপর দেখলাম একটা তার আলগা হয়ে ছিল। ওটা ঠিক করতেই সব ম্যাজিকের মতো কাজ শুরু করল! আমি অনেক অনেক খুশি হইছিলাম সেদিন। চকলেট খাইছিলাম খুশিতে! ওইদিন রাতে আমি ঘুমাতেই পারছিলাম না খুশিতে।
সমসা হলে কি করবে?
মাঝে মাঝে তালি দিলেও কাজ করে না। তখন ওই সেন্সরের ওপর একটা ছোট ইসক্রু আছে ওটা ঘুরাতে হয়। ওটা ঘুরালে সেন্সরটা বেশি শুনতে পায়। আমি অনেকবার ঘুরায় চেক করছি। বেশি ঘুরাইলে আবার সব শব্দে লাইট জ্বলে। তাই সাবধানে ঘুরাইতে হয়। আর তারগুলো যদি লুজ থাকে তাহলে কাজ করবে না একদম। আমার বন্ধু তারিক তো একটা তার ছিড়েই ফেলছিল। ও খুব দুষ্টু। আমি ওকে আর আমার আরডুইনো ছুতে দেই না।
আরেকটা কথা, সেন্সরটা যেন বাল্বের খুব কাছে না থাকে। ভাইয়া বলছে বেশি কাছে থাকলে নাকি প্রব্লেম হয়। আমি জানিনা কেন। কিন্তু ভাইয়া যেহেতু বলছে তাই দূরেই রাখছি। আর তারগুলো যদি ঠিকমত না লাগানো থাকে তাহলে কিন্তু আরডুইনো গরম হয়ে যায়। তখন তাড়াতাড়ি খুলে ফেলতে হয়। আমি একবার ভয় পাইছিলাম যখন আরডুইনো গরম হইছিল। এখন আমি খুব চেক করে লাগাই।
এইটা দিয়ে আর কি করা যায়?
ভাইয়া বলল এইটা দিয়ে নাকি ফ্যান ও চালানো যায়। আমি ভাবছি গরমকালে ফ্যানও তালি দিয়ে চালাব। কত আরাম হবে তাই না? সারাদিন স্কুলে দৌড়াদৌড়ি করে এসে যখন বিছানায় শুয়ে তালি দিব আর ফ্যান ঘুরবে! উফফ ভাবতেই ভালো লাগে। আর এইটা অনেক কাজের। আমার দাদুর পা ব্যাথা উনি হাটতে পারেন না। ওনার ঘরে এইটা লাগায় দিলে ওনার খুব উপকার হবে। ওনাকে আর উঠে সুইচ টিপতে হবে না। আমি দাদুকে অনেক ভালোবাসি তাই ওনার জন্য একটা বানাব বড় হয়ে। দাদুকে বলছিলাম যে দাদু আমি তোমার জন্য তালি সুইচ বানাব। দাদু খুব হাসছে।
আরডুইনো দিয়ে অনেক কিছু করা যায়। আমি একটা রোবট বানাতে চাই যেটা আমার সাথে স্কুলে যাবে। আমার ব্যাগ বহন করবে আর আমার হয়ে অংক করে দিবে। কিন্তু আম্মু বলছে আগে পড়ালেখা করো তারপর রোবট বানাও। আসলে পড়ালেখা করতে খুব বিরক্তি লাগে কিন্তু আরডুইনো নিয়ে খেলতে খুব ভালো লাগে। এইটা কোনো পড়ালেখার মতো না এইটা খেলার মতো। অনেক অনেক মজার খেলা! আমি বড় হয়ে অনেক বড় ইনজিনিয়ার হবো। ইনজিনিয়ার হলে অনেক অনেক রোবট বানানো যায়।
তালি সুইচ বানালে কি কি সুবিধা?
অনেকে বলে যে তালি সুইচ কেন বানাব? আমি বলি কেন বানাব না? এইটা থাকলে অনেক আরাম। রাতে যখন চোর আসবে তখন যদি আমি তালি দেই আর লাইট জ্বলে ওঠে তাহলে চোর তো ভয় পেয়ে পালাবে! তাই না? আবার আম্মু যখন দুই হাতে অনেকগুলো প্লেট নিয়ে ঘরে আসবে তখন তো সুইচ টিপতে পারে না। তখন আমি যদি তালি দেই তাহলে আম্মুর অনেক হেল্প হবে। আম্মু তখন আমাকে আদর করে দিবে।
এইটা বানাতে খুব বেশি সময়ও লাগে না। আমি তো ক্লাস ফাইভ এ পড়ি আমিই পারছি। তোমরা যারা আমার মতো ছোট আছো তোমরাও পারবা। শুধু একটু মন দিয়ে করতে হয়। আর ভুল হলে ভয় পাওয়া যাবে না। আমি তো অনেকবার ভুল করছি। ভাইয়া বলছে ভুল না করলে নাকি শিখা যায় না। তাই আমি এখন ভুল হলে আর কান্দি না। আমি আবার নতুন করে শুরু করি। আরডুইনো বোর্ডটা অনেক শক্ত পক্ত। সহজে নষ্ট হয় না। কিন্তু পানিতে ভিজালে নষ্ট হবে। তাই পানির থেকে দূরে রাখবা। আমার একবার শরবত পড়ে যাচ্ছিল বোর্ডের ওপর! ভাগ্যিস পড়ে নাই!
শেষ কথা
তোমরাও এইটা বানাতে পারো। খুব সহজ কিন্তু ইলেকট্রিক লাইনে হাত দিও না একদম। আব্বু বা ভাইয়াকে সাথে নিও। কারণ কারেন্ট খুব বিপদজনক। আমি তো এখন আমার ঘরে একা একাই তালি দিয়ে লাইট অফ করি। আমার নিজেকে অনেক বড় ইনজিনিয়ার মনে হয় তখন! হাসাহাসি করো না কিন্তু। সত্যি অনেক মজা লাগে। যখন লাইটটা তালি দেওয়ার সাথে সাথে জ্বলে ওঠে তখন মনে হয় আমি একটা সুপার পাওয়ার পেয়ে গেছি!
তোমরা বানালে আমাকে জানিও কেমন লাগল। এখন আমি যাই আমার বিড়ালটাকে খাওয়াতে হবে ও অনেক মেউ মেউ করছে। ও মনে হয় আমার তালি দেওয়ার শব্দে ভয় পাইছে। ওকে একটু আদর করতে হবে। টাটা! আমার নাম লিখলাম না থাক। তালি দিয়ে লাইট নিভায় এখন ঘুমাব। অনেক রাত হইছে কালকে আবার স্কুল আছে। টিচার অংক করতে দিছে ওগুলো তো এখনো করি নাই! ধুররর! গুড নাইট!
ওহ হ্যা বানান ভুল টুল থাকলে ক্ষমা করে দিও আমি তো বাচ্চা মানুষ! সব ঠিকঠাক করতে পারিনা সবসময়! আর আরডুইনো বানানটা খুব কঠিন! আমি অনেকবার ভুলে যাই! দরাজ থেকে জিনিস কিনলে ভালো দেখে কিনো নাইলে পচা জিনিস দেয় মাঝে মাঝে! তালি দাও আর লাইট জালাও! অনেক অনেক অনেক মজা! দাড়া আমি আবার তালি দেই। টক টক! লাইট নিভে গেল! বাই বাই!! আবার দেখা হবে অন্য কোনো পজেক্ট নিয়ে! তখন আমি হয়তো রোবট বানায় ফেলব!!
