১০ টাকার জিনিস দিয়ে ঘরের লাইট নিজে নিজে জ্বলে

রাতে সিঁড়িতে আলো ছিল না। আমার মামা হোঁচট খাইছিল। তারপর ভাইয়া বললো এইটার একটা সমাধান করা যায় আর্ডুইনো দিয়ে। আমি বললাম কিভাবে! তারপর সে একটা ছোট জিনিস লাগাইলো সিঁড়িতে। সন্ধ্যা হলেই লাইট জ্বলে যায়। আমি তো অনেক অবাক!
এইটার নাম হলো Arduino Smart Light System। আমার কাছে মনে হয় এইটা অনেক অনেক মজার জিনিস।
এইটা আসলে কি করে
সহজ কথায় বলি। সন্ধ্যা হলে লাইট নিজে নিজে জ্বলে যায়। সকাল হলে নিজে নিজে নিভে যায়। কেউ সুইচ টিপতে হয় না! আমার কাছে এইটা অনেক ভালো লাগছে কারণ আমি অনেক সময় ভুলে লাইট জ্বালাই রাখি।
একটা সেন্সর থাকে। সেইটা আলো মাপে। তারপর আর্ডুইনোকে বলে। আর্ডুইনো সিদ্ধান্ত নেয় আলো জ্বালাবে না নিভাবে। এইটা এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে হয়। বারবার হয়। কখনো ক্লান্ত হয় না!
রাস্তার বড় বড় লাইটগুলোও নাকি এইভাবে কাজ করে। আমি জানতাম না। অনেক মজার।
LDR জিনিসটা কি
LDR হলো একটা ছোট সেন্সর। এইটাই আসল কাজ করে। আলো বেশি হলে এইটার মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ ভালো যায়। আলো কমলে যায় না। এই পার্থক্যটাই আর্ডুইনো ধরে ফেলে।
দাম কত জানো? মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা! ঢাকার যেকোনো দোকানে পাওয়া যায়। এত সস্তা একটা জিনিস দিয়ে এত কাজ হয়, আমি দেখে বিশ্বাসই করতে পারিনাই।
আমার ভাই ৫mm LDR ব্যবহার করে। বললো এইটা ভালো কাজ করে।
কি কি লাগবে
কেনার আগে একটা লিস্ট করতে হবে। না হলে দোকানে গিয়ে ভুলে যাবে। আমার ভাইও একবার অর্ধেক জিনিস ভুলে গিয়েছিল!
Arduino Uno লাগবে। এইটার দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। LDR সেন্সর লাগবে। রেজিস্টর লাগবে দুইটা। একটা ১০ কিলো-ওহম আরেকটা ৩৩০ ওহম। LED লাগবে একটা। ব্রেডবোর্ড লাগবে। আর জাম্পার তার লাগবে কিছু। USB কেবল সাধারণত বোর্ডের সাথেই থাকে।
সব মিলিয়ে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা লাগবে। একটা রেস্টুরেন্টে খেলে এর চেয়ে বেশি যায়! আর এইটা বানালে সারাজীবন কাজে লাগবে।
সার্কিট কিভাবে লাগাবো
সার্কিট শুনলেই ভয় লাগে। কিন্তু ভাইয়া বললো একটা কথা মনে রাখলেই হয়। লাল তার মানে ৫ ভোল্ট, কালো তার মানে গ্রাউন্ড। এইটুকু মনে থাকলে অনেক ভুল কমে যায়।
LDR-এর এক পা লাগাতে হবে 5V পিনে। অন্য পা লাগাবে A0 পিনে। তারপর ওই একই জায়গা থেকে রেজিস্টরের মধ্যে দিয়ে GND পিনে যাবে। এই তিনটা তার মিলে একটা Voltage Divider হয়।
আর LED-এর লম্বা পা লাগাবে রেজিস্টর দিয়ে Digital Pin 13 এ। ছোট পা সরাসরি GND তে।
একটা কথা! তার যেন একে অপরে না লাগে। লাগলে সমস্যা হবে।
কোড কিভাবে দেবো
আগে Arduino IDE নামাতে হবে। এইটা ফ্রি! arduino.cc তে গেলে পাওয়া যায়।
তারপর কোড লিখতে হবে। কোডে লেখা থাকে threshold মানে একটা সংখ্যা। ওই সংখ্যার নিচে গেলে লাইট জ্বলবে। উপরে থাকলে নিভবে। কোড লেখা হলে Upload দিলেই হয়।
আমাদের Arduio Code Generator এ সরাসরি Code পেয়ে যাবেন।
আপলোড করার সময় Port ঠিকমতো সিলেক্ট করতে হবে। না করলে কাজ হবে না। এইটা অনেকে ভুলে যায়। আমার বন্ধু রিয়াদও একবার এই কারণে অনেকক্ষণ বসে ছিল কিছু বুঝতে পারেনি।
Done uploading দেখালে বুঝবো হয়ে গেছে। বোর্ডের ছোট ছোট লাইট জ্বলে উঠবে।
Serial Monitor দিয়ে দেখবো কিভাবে
IDE-তে একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাসের মতো আইকন আছে। ওইটা চাপলে Serial Monitor খুলবে। সেখানে দেখা যাবে LDR কত রিডিং দিচ্ছে।
হাত দিয়ে সেন্সর ঢেকে দিলে সংখ্যা কমবে। ৫০০ এর নিচে নামলেই LED জ্বলে উঠবে! এইটা দেখে আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম সত্যি বলতে।
Threshold কত রাখবো
এইটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেকে এইটা এড়িয়ে যায়।
বারান্দার আলো আর ঘরের আলো এক না। তাই সবার threshold আলাদা হবে। Serial Monitor খুলে দেখতে হবে সন্ধ্যায় রিডিং কত আসছে। তারপর সেই সংখ্যার চেয়ে ৫০ বা ১০০ বেশি সংখ্যা threshold দিলেই হবে। তারপর আবার আপলোড করো।
এইটা করলে মেঘলা দিনেও ভুলে লাইট জ্বলবে না।
যেসব ভুল হয়
আমি দেখছি কিছু ভুল বারবার হয়। আমার ভাইও কিছু ভুল করছিল শুরুতে।
Port সিলেক্ট না করলে কোড আপলোড হয় না। LED উল্টো লাগালে জ্বলে না। লম্বা পা সবসময় পজিটিভ দিকে দিতে হবে। LED-এ সরাসরি তার দিলে পুড়ে যায়। রেজিস্টর দিতেই হবে। আর GND ভুলে গেলে কিছুই কাজ করবে না। এইটা আমি নিজেও একবার ভুলেছিলাম!
আর জাম্পার তার ভেতরে ছেঁড়া থাকলে বাইরে থেকে বোঝা যায় না। সব ঠিক আছে কিন্তু কাজ হচ্ছে না মানে তার বদলে দেখতে হবে।
কোথায় কাজে আসে
শুধু সিঁড়িতেই না। অনেক জায়গায় কাজে আসে। সিঁড়ি বা করিডোরে লাগালে সন্ধ্যা হলে জ্বলে সকালে নিভে। বারান্দায় লাগানো যায়। গাছের নার্সারিতে লাগানো যায়। অফিসে লাগালে দিনের আলোতে কৃত্রিম আলো বন্ধ থাকে, বিদ্যুৎ বাঁচে।
আর স্কুলের সায়েন্স ফেয়ারে নিলে সবাই দেখবে! আমার মনে হয় এইটা নিলে পুরস্কার পাওয়া যাবে।
শেষে বলি
আমাদের সিঁড়ির লাইট এখনো কাজ করছে। ভাইয়া বানানোর পর থেকে একবারও হাত দিতে হয়নি। সন্ধ্যায় জ্বলে ভোরে নিভে। তাই আমাদের সবার এইটা বানানো উচিত!
