Arduino smart night lamp বানানোর সহজ উপায়

আমি আজ একটা জিনিস বানানোর কথা লিখব। আমার বাসায় একটা নাইট ল্যাম্প আছে কিন্তু সেটা স্মার্ট না। আরডুইনো দিয়ে স্মার্ট নাইট ল্যাম্প। আমার ভাই বলেছে এটা খুব কুল। আর আমি নিজেও চাই আমার ঘরটা যেন আধুনিক হয়। রাতে ঘুম থেকে উঠি তখন লাইট খুজতে গিয়ে হোঁচট খাই। একবার পড়ে গেছিলাম মাথায় ব্যথা পেলাম। মা বলল সাবধান বেটা। কিন্তু আমার মনে হয় এইটা ভালো। ওই যে অন্ধকারে সুইচ পাওয়া যায় না।
স্মার্ট নাইট ল্যাম্পটা কি জিনিস
এইটা একটা বাতি যা নিজে নিজে জ্বলে আর নিভে। আমি শুনেছি এর মধ্যে LDR নামক একটা সেন্সর আছে। এলডিআর। ওই সেন্সর আলো দেখতে পারে। যখন ঘরে আলো কমে যায় মানে রাত হয় তখন বাতি জ্বলে উঠে। আর সকালে নিভে যায়। খুব মজার না! আর আমাকে সুইচ টিপতে হয় না। আমার দাদু বাসায় থাকেন, তিনি রাতে সুইচ পেলেন না। তাহলে এই বাতি খুব কাজে দেয়। দাদু খুশি হবে।
আমার এক বন্ধু বলে এটা লাইট সেন্সর। ওর নাম রাকিব। ওর বাসায় আছে স্মার্ট ল্যাম্প কিন্তু ওটা কিনা। দামি। আমাদের টাকা নাই তাই নিজে বানাবো।
যেই জিনিসগুলা লাগবে
আমার লাগবে আরডুইনো বোর্ড। আমার কাছে আরডুইনো উনো আছে। ভাইয়ার কাছ থেকে নিয়েছি। না হলে ন্যানো ও চলে। তারপর এলডিআর সেন্সর। এইটা খুব ইম্পরট্যান্ট। লাইটের জন্য এলইডি লাগবে। আমি এলইডি নেব লাল রঙের। লাল রং খুব সুন্দর। কিন্তু বড় বাল্ব লাগাতে চাইলে রিলে লাগে।
রিলে কী জিনিস আমি ঠিক বুঝি নাই। ভাইয়া বলে এটা সুইচের মতো কাজ করে। আর দরকার রেজিস্টর। একটা ১০ কিলো ওম আর একটা ২২০ ওম। জাম্পার তার লাগবে অনেকগুলো। ব্রেডবোর্ডও লাগবে যাতে সোল্ডার করতে না হয়। আমি সোল্ডার করতে ভয় পাই।
প্লাস্টিকের বক্স থাকলে ভালো লুক পাবে। কিন্তু না থাকলে খোলা রাখলেও চলে। পাওয়ার সাপ্লাই হিসেবে ব্যাটারি বা ইউএসবি ক্যাবল। আমার কাছে পাওয়ার ব্যাংক আছে তাই ওটা দিয়েই চালাবো। পাওয়ার ব্যাংকটা পিংক রঙের। মা দিয়েছে।
আমার বন্ধু রাকিব বলে এটা অনেক টাকার প্রজেক্ট। কিন্তু আসলে না। আমি হিসাব করেছি প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে হবে। আরকি আরডুইনো যদি না থাকে তাহলে বেশি লাগবে। কিন্তু আমার আছে।
কিভাবে কাজ করে এই জিনিসটা (আমি পুরাপুরি জানি না)
আমি ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। সে বলে এলডিআর এর রেজিস্ট্যান্স আলোতে কমে যায় আর অন্ধকারে বেড়ে যায়। মানে যখন অন্ধকার তখন এলডিআর অনেক রোধ তৈরি করে।
আরডুইনো এই পরিবর্তন টের পেয়ে এলইডি জ্বালিয়ে দেয়। আমি আগে ভাবতাম এটা ম্যাজিক। কিন্তু এখন বুঝি এটা সায়েন্স। সায়েন্স খুব কঠিন কিন্তু মজার।
একটা ভোল্টেজ ডিভাইডার সার্কিট বানাতে হয়। আমি জানি না ওটা কী। ভাইয়া বানিয়ে দিয়েছে। তাহলে এলডিআর এর একটা পা ফাইভ ভোল্টে আরেকটা পা এনালগ পিন এ০ তে। তারপর একটা ১০ কে রেজিস্টর গ্রাউন্ডে দিতে হয়। তাহলেই কাজ চলে।
এলইডির লম্বা পা পিন ১৩ এ আর ছোট পা গ্রাউন্ড এ। এলইডির সাথে ২২০ ওম রেজিস্টর লাগাবো না লাগালে এলইডি ফুটে যেতে পারে। আমি একবার ফুটিয়েছিলাম। দুর্গন্ধ হয়েছিল।
কোড লিখতে গেলে মাথা ব্যথা করে খুব
কোড জিনিসটা আমার জন্য কঠিন। ভাইয়া লিখে দিয়েছে। আমি এটা কপি করব। ওই যে
int ldrPin = A0;
int ledPin = 13;
int threshold = 500;
void setup() {
pinMode(ledPin, OUTPUT);
pinMode(ldrPin, INPUT);
}
void loop() {
int ldrValue = analogRead(ldrPin);
if (ldrValue < threshold) {
digitalWrite(ledPin, HIGH);
} else {
digitalWrite(ledPin, LOW);
}
}এইখানে threshold মান ৫০০। মানে যখন সেন্সরের মান ৫০০ এর কম হবে তখন অন্ধকার ধরে এলইডি জ্বলবে। আমি চাইলে মান বাড়াতে বা কমাতে পারি। আমার ঘরের আলো কেমন সেটা দেখে ঠিক করব। ভাইয়া বলে সিরিয়াল মনিটর খুলতে হয়। সেটা আমি পারি না। ভাইয়া করে দেয়।
বানানোর সময় অনেক ঝামেলা হইছিল
আমি প্রথমবার চেষ্টা করেছিলাম কাজ করেনি। এলইডি জ্বলছিল না। আমি খুব রেগে গেছিলাম। ভেবেছিলাম সব ভেঙে ফেলব। তারপর ভাইয়া এসে দেখে বলল এলডিআর এর পিন উল্টা লাগিয়েছিস। আর রেজিস্টর লাগাই নাই।
পরে ঠিক করায় এলইডি জ্বলল। খুব আনন্দ লেগেছিল। আমি লাফিয়াছিলাম। মা বলল কি হইছে পাগল হইছিস। আমি বললাম মা আমার ল্যাম্প কাজ করছে!! সে ও দেখেছে। সে বলেছে ভালো বানাইছস। কিন্তু পড়ালেখা করবি না? আমি বললাম এটাও পড়ালেখা।
কাজ করার সময় হাত দিয়ে এলডিআর ঢেকে দেখতে হয় এলইডি জ্বলে কিনা। জ্বললে বুঝবো ঠিক আছে। আমি ঢাকলাম জ্বলে উঠলো।
তারপর হাত সরালাম নিভে গেল। ম্যাজিক!! পরে একটা বক্স এ বসাতে চাইলাম কিন্তু বক্স ছিদ্র করতে ভুলে গেছিলাম। তখন সেন্সরে আলো পড়ছিল না তাই ল্যাম্প কাজ করছিল না। আমি কান্ডছি। তারপর ছিদ্র করলাম।
কোথায় কোথায় ব্যবহার করা যায়
আমি এই ল্যাম্প আমার শোবার ঘরে রাখব। রাতে ঘুমালে জ্বলবে আর ঘুম ভাঙ্গলে দেখবো নিভে গেছে। আমি চাইলে সিঁড়ির পাশে দিতে পারি যেন রাতে বাবা মা না পড়ে যান। আমার বাবা একবার রাতে পড়ে গেছিল। আর আমার ছোট বোন রাতে উঠলে ভয় পায়, ওর রুমে দিয়ে দিব। ওর নাম তিশা। ও ৫ বছর বয়স। ও ভয় পায় অন্ধকারে।
বাথরুমের সামনেও দিতে পারেন। অনেকে করে। আমি একবার ফ্রিজের ভিতর দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভাইয়া বলল সেটা ঠিক না। কারণ ফ্রিজ ঠান্ডা। আচ্ছা, স্কুলে আমার ফ্রেন্ড সজীব বলে সে তার পড়ার টেবিলে দিবে। আমি বললাম তুই বানা। কিন্তু সে পারে না। ও ল্যাপটপ খেলে বেশি।
ভালো দিক আর খারাপ দিক দুইটাই আছে
ভালো দিক হলো বিদ্যুত কম খায়। আর সুইচ টিপতে হয় না। আমি অলস। এটা আমার জন্য ভালো। আর বানাতে শিখলে পরে বড় বড় প্রজেক্ট করা যাবে। আমি চাই রোবট বানাবো একদিন। কিন্তু এখন এইটাই অনেক। আমার মনে হয় এই ল্যাম্প দিয়ে চোখেরও ক্ষতি কম হয়।
কিন্তু খারাপ দিক ও আছে। এলডিআর সেন্সর খুব সুক্ষ। পাশের ঘরের লাইট বা রাস্তার বাতির আলো এসে পড়লে কাজ করে না। আমার বাসার সামনে একটা স্ট্রিট লাইট আছে। খুব উজ্জল। তাই আমার ঘরে কিছু আলো আসে।
আমি threshold মান কমিয়ে ৩০০ করলাম। তখন কাজ করে মোটামুটি। আরেকটা সমস্যা হলো আরডুইনো সব সময় বিদ্যুত খায়। ব্যাটারি দিলে শেষ হয়ে যায়। আমি পাওয়ার ব্যাংক দেই। ওটা চার্জ দিতে হয়। আর বড় বাল্ব লাগাতে গেলে শক লাগার ভয়। ভাইয়া বলেছে ২২০ ভোল্ট নিয়ে খেলবো না। আমি মানি।
আরও স্মার্ট করার অনেক আইডিয়া
আমি চাইলে ব্লুটুথ দিয়ে ফোন থেকে কন্ট্রোল করব। কিন্তু ব্লুটুথ মডিউলের টাকা বেশি। পির সেন্সর দিয়ে মানুষ দেখলে জ্বলবে। ওটা ভালো।
আমি ইউটিউবে দেখছি কেউ আরজিবি এলইডি দিয়ে রঙ বদলায়। সেটা আমিও করতে চাই। লাল নীল সবুজ!! খুব মজা। কিন্তু টাকা নাই।
আমার ভাইয়া বলে এসপি৮২৬৬ ওয়াইফাই মডিউল দিয়ে ইন্টারনেট থেকেও কন্ট্রোল করা যায়। সেটা আমার বুঝতে পারি নাই।
ওহ অনেক কিছু। আমি আবার ভাবলাম স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় নিয়ে যাব। গতবার আমি পেপার বোট বানাইছিলাম সেটা ডুবে গেছিল। সবাই হেসেছিল। এবার ইলেকট্রনিক্স নিলে স্যার ইম্প্রেস হবে। স্যার সায়েন্সের। ওনার নাম মি. হাসান। তিনি খুব ভালো।
মোট খরচ ৪১৫ টাকা (আমি হিসাব করেছি)
আরডুইনো উনো ক্লোন ৩০০ টাকা। এলডিআর আর রেজিস্টর ১০ টাকা। এলইডি ৫ টাকা। ব্রেডবোর্ড ছোট সাইজ ৬০ টাকা। জাম্পার তার ২০ টাকা। ব্যাটারি কানেক্টর ২০ টাকা।
সব মিলিয়ে ৪১৫ টাকা। আমার বাবা টাকা দিয়েছে। কিন্তু তিনি বলেন পড়ালেখা না করে ইলেকট্রনিক্স নিয়ে কেন ব্যস্ত। আমি বলি এটাও পড়ালেখা। তিনি হাসেন। তারপর বলেন ঠিক আছে বানা।
বাজারে স্মার্ট লাইট কিনতে ২০০০ টাকা লাগে। অনেক বেশি। আমি গরিব না কিন্তু টাকা বাঁচানো ভালো।
শেষ কথা বলি
আমি খুব খুশি। প্রথমবার না পারলেও দ্বিতীয়বার পেরেছি। আমার মামা বলে চেষ্টা করলে সব হয়। আমি চাই সব বন্ধুরা এটা বানাক। তাহলে আমাদের দেশ স্মার্ট হবে। আমি এখন আরেকটা প্রজেক্ট শুরু করব। ওটা হবে অটো ওয়াটারিং প্ল্যান্ট। গাছে পানি দেয়। কিন্তু সেটা আরেকদিন বলব।
এখন আমার মা ডাকছে খেতে। আর আমার ইংলিশের হোমওয়ার্ক করা হয় নাই। ও মাই গড। কাল স্যার বকা দিবেন। স্যার সুমন। তিনি খুব রাগি। গতবার আমি হোমওয়ার্ক করি নাই তিনি বলেছিলেন দাঁড়া। আমি ভয় পাই।
তাই আমার মনে হয় সবাই যদি ছোট ছোট প্রজেক্ট করে তাহলে অনেক কিছু শেখা যায়। আর দামি জিনিস কেনার দরকার নাই। নিজের হাতে বানানো জিনিসের মজাই আলাদা। ওই যে আমি বানাইছি সেটা দেখলে বন্ধুরা বলে ওয়াও। ভালো লাগে।
আমার বানানো স্মার্ট নাইট ল্যাম্প এখনো একটু ঠিকমতো কাজ করে না। কখনো জ্বলে কখনো নিভে। ভাইয়া বলবে ক্যালিব্রেশন করতে। ক্যালিব্রেশন মানে কি আমি জানি না। আমার ধারণা মানে অ্যাডজাস্ট করা। কিন্তু যাই হোক। আমি ঠিক করব। হয়তো একদিন পারব।
আমার এখন সত্যিই যেতে হবে। মা চিৎকার করছে। বাই!!
