Google Pixel 10a কি আইফোনের চেয়ে ভালো

Google Pixel 10a Review

আমার ভাই একটা নতুন ফোন কিনছে। নাম পিক্সেল ১০এ। আমি প্রথমে শুনে ভাবছিলাম পিক্সাল না পিক্সেল কোনটা ঠিক। ভাই বললো পিক্সেল। তারপর ফোনটা হাতে দিলো আমাকে।

অনেক সুন্দর ফোন সত্যি বলতে।

আমাদের বাসায় আগে একটা স্যামসাং ছিলো সেইটা অনেক পুরানো হয়ে গেছে। আম্মুর ফোন সেইটা। সেইটায় ছবি তুললে মুখ ঝাপসা আসে। আর ভাইয়ের নতুন ফোনে ছবি তুললাম আমি, বাগানের ফুলের ছবি, এত সুন্দর আসছে যে পাপড়ির ভেতরেও দেখা যাচ্ছে সব। আম্মু দেখে বললো এত সুন্দর ছবি!

ফোনটা ধরতে কেমন লাগে

পিচ্ছিল না এইটা। পিছনটা একটু খসখসে মতো। চকচকে ফোন হাত থেকে পড়ে যায় তাই আমি চকচকে পছন্দ করি না। এইটা ধরতে ভালো লাগে। রঙটা কেমন একটু ছাই ছাই নীল নীল। ভাই বললো নাম Obsidian। আমি মনে রাখতে পারি নাই নামটা কিন্তু দেখতে সুন্দর।

স্ক্রিন অনেক বড়। আমার দুই হাত লাগে ধরতে। আমাদের ক্লাসে রহিম বলছে তার চাচার ফোন আরো বড়। রহিম সবসময় বাড়াইয়া বলে তাই বিশ্বাস করি নাই।

ক্যামেরার কথা

ভাই বলছিলো পিক্সেল ফোনের ক্যামেরা সবচাইতে ভালো হয়। আমি নিজে তুলছি কিছু ছবি। সত্যিই অনেক ভালো আসছে। রাতে ছাদে গিয়ে ভাই ছবি তুললো, আলো প্রায় ছিলোই না তবুও ছবি পরিষ্কার আসছে। এইটা কিভাবে হয় জানি না কিন্তু হইছে।

আর একটা জিনিস দেখলাম। ছবি থেকে জিনিস মুছে দেওয়া যায়! ভাই একটা ছবিতে পিছনে একটা গাছ ছিলো সেইটা এক সেকেন্ডে মুছে দিলো। আমি অনেক অবাক। এইটা AI দিয়ে করে নাকি ভাই বলছে।

সেলফি ক্যামেরাও ভালো। ভাই আমাকে নিয়ে তুললো একটা। আমাকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। আম্মুর পুরানো ফোনে সেলফি তুলতাম তখন আমার মুখ কেমন ঘোলা ঘোলা আসতো।

আমার বন্ধু সিফাত বলে আইফোনের ক্যামেরা বেশি ভালো। সিফাত সবসময় আইফোনের কথা বলে কারণ ওর আব্বুর আইফোন আছে। আমি একটু বিরক্ত হই এইটা নিয়ে।

ব্যাটারি

ভাই বলছে ব্যাটারি আরেকটু বড় হলে ভালো হতো। সারাদিন ব্যবহার করলে সন্ধ্যার দিকে চার্জ দিতে হয়। এইটা একটু সমস্যা মনে হয় আমার কাছে। কিন্তু ভাই বললো চার্জ হয় দ্রুত, এক ঘণ্টায় অনেকটা হয়ে যায়। আমাদের আগের ফোনে তিন ঘণ্টা লাগতো চার্জ হতে।

রাফি বলছে তার আব্বুর ফোনে দুইদিন ব্যাটারি থাকে। কোন ফোন জিজ্ঞেস করলাম মনে নাই বলে। রাফি এরকমই।

স্পিড কেমন

ভাই কি একটা চিপের নাম বললো, টেনসর কিছু একটা। আমি বুঝি নাই। কিন্তু ফোন চালাইলে বুঝছি অনেক দ্রুত। গেম খেলছি একটু, আটকায় নাই। ইউটুব দেখলাম তাও আটকায় নাই। আমাদের পুরানো ফোনে ভিডিও চালু হতে অনেক সময় লাগতো।

আমাদের স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবের কম্পিউটার গুলা অনেক স্লো। চালু হতেই পাঁচ মিনিট লাগে। স্যার বলে পুরানো হয়ে গেছে। পিক্সেলের মতো দ্রুত হলে ভালো হতো।

তারপর ফোনে কথা বললে অটোমেটিক লিখে দেয় কি বলছি। এইটা দেখে আমি একটু ভয় পাইছিলাম প্রথমে। পরে মজার লাগলো।

দাম শুনে মাথা ঘুরছে

ভাই বললো এইটার দাম পঞ্চাশ হাজার টাকার মতো হবে বাংলাদেশে। আমি শুনে চুপ হয়ে গেলাম। আমি মাসে পঞ্চাশ টাকা পাই টিফিনের জন্য। তাহলে এক হাজার মাস লাগবে! মানে প্রায় তিরাশি বছর! আমি তখন বুড়ো হয়ে যাবো।

আমেরিকায় নাকি ৫০০ ডলারে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে বেশি কারণ অফিশিয়াল শপ নাই।

আমার একটু কষ্ট লাগে সত্যি। এত সুন্দর জিনিস দেখলাম হাতে নিলাম, কিন্তু কোনোদিন কিনতে পারবো কিনা জানি না। ভাই অনেক কষ্ট করে টাকা জমাইছে কিনতে। আমিও বড় হয়ে চাকরি করে কিনবো।

গুগল অ্যাসিস্টেন্ট ব্যাপারটা

ফোনে কথা বলা যায় আর বোঝে। আমি বললাম আজকে আবহাওয়া কেমন, বলে দিলো। তারপর বললাম একটা গান বাজাও, বাজাইলো। আমার অনেক মজা লাগলো। আমি অনেকক্ষণ ধরে বিভিন্ন কথা বলতে লাগলাম।

আম্মু দেখে বললো এইটা কি জ্বীন আছে নাকি ফোনে! আমি হাসতে হাসতে পড়ে গেলাম প্রায়।

মোটের উপর পিক্সেল ১০এ অনেক ভালো ফোন। ক্যামেরা সত্যিই দারুণ, স্পিড ভালো, দেখতেও সুন্দর। শুধু দামটা বেশি এইটাই সমস্যা। বাকি সব ঠিকাছে।