Samsung Galaxy S26 Ultra যেন সুপার কম্পিউটার: The Ultimate Flagship of 2026
আসসালামু আলাইকুম! ২০২৬ সালের প্রযুক্তি বিশ্বে এখন একটিই গুঞ্জন— Samsung Galaxy S26 Ultra। কবি জীবনানন্দ দাসের ভাষায় বলতে গেলে, “সবাই যেখানে পথ হারায়, সেখানেই শুরু হয় নতুন এক যাত্রা।” স্মার্টফোনের দুনিয়ায় স্যামসাং ঠিক সেই নতুন যাত্রারই সূচনা করেছে।
আপনি যদি একজন Tech-enthusiast হন, তবে এই ফোনটি আপনার জন্য কেবল একটি ডিভাইস নয়, বরং একটি ডিজিটাল স্টেটমেন্ট।
আপনি কি সেই দলের মানুষ, যারা পকেটে ফোন নয়, বরং একটা আস্ত ‘সুপার কম্পিউটার’ নিয়ে ঘুরতে ভালোবাসেন? তাহলে আজকের এই আড্ডাটা আপনার জন্যই।
কবি লিখেছিলেন—
“নূতন ধরণী, নূতন আকাশ, নূতন প্রাণের মেলা”
ঠিক তেমনি ২০২৬-এর টেক দুনিয়ায় নতুন প্রাণ নিয়ে হাজির হয়েছে Samsung Galaxy S26 Ultra। কেউ বলছেন এটা শুধু একটা ফোন, আর আমি বলছি এটা হলো আপনার হাতের মুঠোয় থাকা এক টুকরো ভবিষ্যৎ। চলুন, আজকের এই মেগা আর্টিকেলে আমরা ব্যবচ্ছেদ করি স্যামসাংয়ের এই নতুন বিস্ময়কে।
একনজরে মূল বিষয়
পুরো আর্টিকেল পড়ার সময় না থাকলে নিচের পয়েন্টগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিন:
- Launch date: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (গ্যালাক্সি আনপ্যাকড)।
- Processor: বিশ্বের দ্রুততম Snapdragon 8 Elite Gen 5 (Custom for Galaxy)।
- Display: ৬.৯ ইঞ্চি ডায়নামিক AMOLED 2X, সাথে থাকছে জাদুকরী ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’ প্রযুক্তি।
- Camera: ২০০ মেগাপিক্সেল মেইন সেন্সর এবং চোখ ধাঁধানো ৫এক্স পেরিস্কোপ লেন্স।
- Charging: অবশেষে স্যামসাংয়ের ঘরানায় এলো ৬০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং।
- এআই (AI): ওয়ান ইউআই ৮.৫-এর সাথে আরও Advanced ‘Galaxy AI‘।
১. Samsung S26 Ultra: ফোনের বেশে এক পাওয়ারহাউজ

শুরুতেই বলি, আমি যখন প্রথম এই ফোনটির প্রোটোটাইপ লিকগুলো দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল স্যামসাং এবার বোধহয় আইফোনকে একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে এর পারফরম্যান্স স্কোর দেখে আমার চোখ তো চড়কগাছ! Geekbench-এ এটি iPhone 17 Pro Max-কেও প্রায় ২০% পেছনে ফেলে দিয়েছে।
Samsung Galaxy S26 Ultra শুধু গেমারদের জন্য নয়, এটি যারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা প্রফেশনাল কাজ করেন, তাদের জন্য একটি Ideal device। এর টাইটানিয়াম ফ্রেম আর Gorilla Armor 2 Protection এটাকে দিয়েছে প্রিমিয়াম লুক আর অবিশ্বাস্য স্থায়িত্ব।
২. Performance: যখন গতিই শেষ কথা
এবার আসি এর আসল শক্তিতে। এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট। নামটা শুনতে যতটা ভারী, কাজটাও ঠিক ততটাই পাওয়ারফুল।
কেন এই প্রসেসর সেরা?
১. এটি ৩ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি, যা ব্যাটারি খরচ কমিয়ে পারফরম্যান্স বাড়ায়।
২. 4.74 GHz পর্যন্ত ক্লক স্পিড, যা ল্যাগ শব্দটিকে ডিকশনারি থেকে মুছে দেবে।
৩. গেমিংয়ের সময় হিট ম্যানেজমেন্টের জন্য এতে যোগ করা হয়েছে উন্নত ভেপার চেম্বার কুলিং।
আমি পার্সোনালি অনেক হাই-এন্ড গেমিং ফোন ব্যবহার করেছি, কিন্তু Samsung S26 Ultra-এর স্মুথনেস আপনাকে বাধ্য করবে বলতে— “বাহ! এটাই তো চেয়েছিলাম।”
৩. ক্যামেরা ম্যাজিক: DSLR in your pocket
স্যামসাংয়ের আল্ট্রা সিরিজ মানেই ক্যামেরার রাজত্ব। এবারের samsung galaxy s26 ultra-তে তারা এমন কিছু সেন্সর ব্যবহার করেছে যা রাতের অন্ধকারকেও দিনের মতো ফর্সা করে দেবে।
| ফিচার | স্পেসিফিকেশন | সুবিধা |
| মেইন ক্যামেরা | ২০০ মেগাপিক্সেল (ISOCELL HP2) | পোস্টার সাইজ প্রিন্ট করলেও ফাটবে না। |
| পেরিস্কোপ লেন্স | ৫০ মেগাপিক্সেল (৫এক্স অপটিক্যাল) | চাঁদের গর্ত দেখার নেশা এবার আরও স্পষ্ট হবে। |
| আল্ট্রা-ওয়াইড | ৫০ মেগাপিক্সেল | ল্যান্ডস্কেপ ছবিতে ডিটেইলস থাকবে তুখোড়। |
| সেলফি | ১২ মেগাপিক্সেল (Dual Pixel) | স্কিন টোন একদম ন্যাচারাল থাকবে। |
৪. প্রাইভেসি ডিসপ্লে: এবার পাশের মানুষ উঁকি দিতে পারবে না!
আমরা যখন বাসে বা ট্রেনে ফোন চালাই, পাশের সিটের ভদ্রলোক যেভাবে উঁকি দেন, মনে হয় ফোনের অর্ধেক দাম উনিও দিয়েছেন। এই সমস্যার সমাধানে Samsung S26 Ultra-তে এসেছে ‘Zero-Peeking’ প্রাইভেসি ডিসপ্লে।
কীভাবে কাজ করে এটি?
এটি একটি সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের কম্বিনেশন। আপনি যখন মোডটি অন করবেন, তখন সরাসরি সামনে থেকে স্ক্রিন দেখা যাবে, কিন্তু সাইড থেকে কেউ তাকালে শুধু কালো ধোঁয়া বা ঝাপসা কিছু দেখবে। আপনার ব্যাঙ্কিং ট্রানজ্যাকশন বা পার্সোনাল চ্যাট এখন হবে শতভাগ সুরক্ষিত।
৫. Charging and battery: স্যামসাং কি তবে শোধরালো?
অনেক দিন ধরে আমরা অভিযোগ করছিলাম যে স্যামসাং কেন চার্জিং স্পিড বাড়ায় না। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর samsung galaxy s26 ultra-তে আমরা দেখতে পাচ্ছি ৬০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং।
যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলো ১০০ বা ২০০ ওয়াট দিচ্ছে, কিন্তু ব্যাটারি হেলথ ঠিক রাখার জন্য ৬০ ওয়াটকে আমি একটা ‘ব্যালেন্সড’ সিদ্ধান্ত বলবো। সাথে আছে ৫০০০ mAh ব্যাটারি, যা আপনাকে অনায়াসেই দেড় দিন সাপোর্ট দেবে।
৬. Galaxy AI: আপনার ব্যক্তিগত সেক্রেটারি
২০২৬ সালে এআই ছাড়া স্মার্টফোন ভাবাই যায় না। One UI 8.5-এর সাথে আসা নতুন এআই ফিচারগুলো আপনার জীবনকে সহজ করে দেবে। যেমন—
- Live call translation: আপনি বাংলায় কথা বলবেন, ওপাশে থাকা জাপানি বন্ধু শুনবে জাপানি ভাষায়।
- Photo Assist: ছবির যেকোনো অবজেক্ট মুছে ফেলা বা মুভ করা এখন মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কাজ।
- Note Assist: আপনার বড় মিটিংয়ের নোটগুলোকে এক নিমিষেই সামারি করে দেবে।
Samsung S26 Ultra vs iPhone 17 Pro Max
মনে রাখবেন, Samsung S26 Ultra আগামীকাল (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) উন্মোচিত হতে যাচ্ছে, আর iPhone 17 Pro Max গত সেপ্টেম্বরে বাজারে এসেছে। দুই ফোনের এই ‘Face-off’ চার্টটি আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
| Feature | Samsung Galaxy S26 Ultra | iPhone 17 Pro Max |
| Display | 6.9-inch Dynamic AMOLED 2X, 144Hz, 3000 nits Peak Brightness. | 6.9-inch LTPO Super Retina XDR, 120Hz, 2800 nits Peak Brightness. |
| Processor | Snapdragon 8 Elite Gen 5 (3nm Galaxy Edition). | Apple A19 Pro (3nm TSMC Second Gen). |
| RAM/Storage | 12GB/16GB LPDDR5X, Up to 1TB UFS 4.1. | 12GB RAM, Up to 1TB NVMe. |
| Main Camera | 200MP (f/1.7) with Advanced ISOCELL. | 48MP (f/1.8) with Multi-pixel focus. |
| Telephoto | 50MP (5X Optical) + 10MP (3X Optical). | 48MP (5X Optical) Tetraprism lens. |
| Selfie Camera | 12MP Dual Pixel PDAF. | 24MP TrueDepth Camera. |
| Battery & Charging | 5,000 mAh with 60W Wired, 15W Wireless. | 4,852 mAh (approx), 35W Wired, 25W MagSafe. |
| Security | Ultrasonic Under-display Fingerprint + Privacy Display. | FaceID (Improved Gen 3). |
| Productivity | Built-in S-Pen with 2.8ms Latency. | No Stylus support. |
| Software Support | 7 Years of OS & Security Updates. | 6-7 Years of iOS Updates. |
| AI Integration | Galaxy AI (Real-time translation, Note assist). | Apple Intelligence (Siri Gen 2, Private Cloud). |
| Body Material | Grade 5 Titanium with Gorilla Armor 2. | Grade 5 Titanium with Ceramic Shield. |
মূল পার্থক্যের বিশ্লেষণ
১. পারফরম্যান্স (Performance): গিকবেঞ্চ স্কোর অনুযায়ী, Snapdragon 8 Elite Gen 5 মাল্টি-কোর পারফরম্যান্সে অ্যাপলের A19 Pro-কে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর দিচ্ছে। বিশেষ করে গেমিংয়ের ক্ষেত্রে স্যামসাংয়ের ‘Vapor Chamber’ কুলিং সিস্টেম আইফোনের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে থাকে।
২. ডিসপ্লে ও ভিউয়িং (Display): স্যামসাংয়ের 144Hz Refresh Rate গেমিং এবং স্ক্রলিংয়ে আইফোনের চেয়ে অনেক বেশি স্মুথ অভিজ্ঞতা দেবে। এছাড়া তাদের নতুন ‘Anti-reflective’ কোটিং রোদে ব্যবহারের জন্য আইফোনের চেয়ে শ্রেয়।
৩. চার্জিং ও ব্যাটারি (Battery Life): আইফোন সাধারণত ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশনে সেরা, তবে স্যামসাংয়ের 60W Fast Charging সুবিধা এবার বড় গেম-চেঞ্জার। যেখানে আইফোন ফুল চার্জ হতে প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট নেয়, স্যামসাং S26 Ultra হয়তো ৪৫ মিনিটের মধ্যেই ফুল চার্জ হয়ে যাবে।
৪. উৎপাদনশীলতা (Productivity): যারা প্রফেশনাল কাজ করেন বা নোট নিতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য S-Pen একটি বিশাল প্লাস পয়েন্ট, যা আইফোনে এখনো অনুপস্থিত।
উপসংহার
সবশেষে এটাই বলবো, Samsung Galaxy S26 Ultra কোনো বিবর্তন নয়, বরং এটি একটি বিপ্লব। যারা সেরা ডিসপ্লে, সেরা ক্যামেরা আর ফাটাকেস্ট পারফরম্যান্স খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ফোনটি হবে এক কথায় অতুলনীয়।
দাম একটু বেশি মনে হতে পারে, কিন্তু “সস্তার তিন অবস্থা”র চেয়ে দামী জিনিসের আভিজাত্যই আলাদা।
আশা করি, আপনার Tech-travel এবার আরও রোমাঞ্চকর হবে। আপনার কি মনে হয়? আইফোন কি পারবে স্যামসাংয়ের এই গতির সাথে পাল্লা দিতে?
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
১. Samsung S26 Ultra বাংলাদেশে কবে আসবে?
উত্তর: Samsung S26 Ultra সম্ভাব্য ১১ মার্চ ২০২৬-এ গ্লোবাল মার্কেটের পাশাপাশি বাংলাদেশেও পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. Samsung Galaxy S26 Ultra-তে কি এস-পেন (S-Pen) থাকবে?
উত্তর: হ্যাঁ, Samsung Galaxy S26 Ultra-তে ইন-বিল্ট এস-পেন থাকবে এবং এবারের সেন্সরটি আরও বেশি রেসপন্সিভ করা হয়েছে।
৩. Samsung S26 Ultra-এর দাম কত হতে পারে?
উত্তর: ভেরিয়েন্ট ভেদে Samsung S26 Ultra-এর দাম বাংলাদেশে ২,০০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।
৪. Samsung Galaxy S26 Ultra-এর ডিসপ্লে কি আগের চেয়ে বড়?
উত্তর: হ্যাঁ, এবার ৬.৯ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে যা Samsung Galaxy S26 Ultra-কে কন্টেন্ট দেখার জন্য সেরা করে তুলেছে।
৫. Samsung S26 Ultra-তে কি Micro SD card support করবে?
উত্তর: না, Samsung S26 Ultra-তে কোনো External SD card slot নেই, তবে ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ ভেরিয়েন্ট পাওয়া যাবে।







