Nothing Phone 4a কি সত্যিই এত ভালো?

Nothing Phone 4a launch

আমাদের পারার রাফি ভাইয়ার কাছে একটা নতুন ফোন আসছে। নাথিং ফোন ফোর-এ। আমি দেখতে গেছিলাম আর দেখে মাথা ঘুরে গেছে। এত্ত সুন্দর ফোন আগে দেখিনি কখনো। তামিমকেও ডেকে নিয়ে গেলাম। ও দেখে বলল ইশ আমার বাবাকে বলবো কিনতে।

ফোনটা দেখতে কেমন

ফোনটার পিছনে কাচ আছে। আর সেই কাচের নিচে আলো জ্বলে! অনেক অনেক ছোট ছোট আলো, মানে লাইট গুলো জ্বলতে থাকে নিভতে থাকে। রাফি ভাই বলল এটার নাম গ্লিফ ইন্টারফেস বা এরকম কিছু একটা।

আমি পুরো নামটা মনে রাখতে পারিনি কারণ নামটা একটু কঠিন। কিন্তু দেখতে অনেক অনেক কুল লাগে। আমার বন্ধু তামিম বলল এটা দেখতে রবোটের মতো। আমারও তাই মনে হয়।

ফোনটা ধরলে মনে হয় ভবিষ্যতের কোনো জিনিস হাতে ধরছি। স্কুলে রাহেলা ম্যাডাম বলেছিলেন ভবিষ্যতে সব কিছু অনেক আলোকিত হবে। এই ফোন দেখলে ম্যাডামের কথা মনে পড়ে।

রঙ হলো সাদা বা কালো, দুইটা আছে। রাফি ভাইয়ার টাটা সাদা রঙের। সাদা রঙে আলোগুলো আরো বেশি ভালো দেখায়। কালোটাও দেখতে ভালো নিশ্চয়ই, কিন্তু সাদাটা বেশি সুন্দর আমার কাছে মনে হয়। ফোনের চারপাশটা মসৃণ।

পিচ্ছিল না কিন্তু। হাতে ভালো করে ধরা যায়। রাফি ভাই বলল এটা নাকি ধরলে হাত থেকে পড়ে না সহজে। আমি একবার আমার ছোট বোনের পুতুল ফোন ফেলে দিয়েছিলাম, ভেঙে গেছিল। সেটা আলাদা কথা।

ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা

রাফি ভাইয়া আমার ছবি তুললেন ফোনটা দিয়ে। আমি অনেক সুন্দর এসেছি! মানে ছবিটা সুন্দর হইছে। পিছনে দুটো ক্যামেরা আছে। বড় একটা আর ছোট একটা।

বড়টা দিয়ে সাধারণ ছবি, ছোটটা দিয়ে আলট্রাওয়াইড নাকি কি যেন। আমি ঠিক বুঝিনি কিন্তু রাফি ভাই বলল একটা দিয়ে অনেক বড় এলাকা তোলা যায় একসাথে। আমি চাইলাম আমার আর তামিমের আর রুহানের তিনজনের ছবি তুলবো।

একটাই ছবিতে তিনজন চলে আসলো। এটা আমার খুব ভালো লাগছে। রাহেলা ম্যাডাম ক্লাসে ছবি তুলতে দেন মাঝে মাঝে। ওই ছবিগুলোও এরকম ক্যামেরায় তুললে অনেক সুন্দর হতো।

রাত্রে ছবি তুলে দেখাইলো। একটুও ঝাপসা না। আমার আব্বুর পুরানো ফোনে রাত্রে ছবি তুললে কিছুই বোঝা যায় না। কিন্তু এই ফোনে রাত্রেও পরিষ্কার আসে। ভিডিও করলেও ভালো আসে। রাফি ভাই বলল ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

পঞ্চাশ! এত্ত বড় সংখ্যা। আমি মেগাপিক্সেল মানে ঠিক জানি না কিন্তু বড় সংখ্যা হলে ভালো এটুকু বুঝেছি। ক্যামেরায় জুম করা যায়। রাফি ভাই দূরের বিল্ডিং জুম করে দেখালেন। অনেক পরিষ্কার আসছে।

আলোগুলো কি কাজে আসে

পিছনের আলোগুলো শুধু দেখতে সুন্দর না। কাজেও লাগে। কেউ ফোন করলে আলো জ্বলে। মেসেজ আসলে আলো জ্বলে। কিন্তু ভিন্ন ভিন্নভাবে।

মানে কে ফোন করছে সেটাও আলো দেখে বোঝা যায়। রাফি ভাই একটা আলোর ধরন ঠিক করে রাখছে মার জন্য, আরেকটা বন্ধুদের জন্য। খুব অদ্ভুত না? আমার কাছে তো মনে হলো এটা যাদুর মতো।

ফোন উপুড় করে রাখলেও বোঝা যায় কে ফোন করছে। আলো পিছন দিক থেকেও দেখা যায় মেঝেতে পড়ে। একদম জিনিয়াস আইডিয়া এটা।

কিন্তু স্কুলে ফোন নেওয়া যায় না, তাই এই সুবিধাটা আমি নিজে কখনো পাবো না। তামিমের বাবার ফোনে এরকম কিছু নেই। কারোর ফোনেই নেই আসলে। শুধু নাথিং ফোনেই আছে এই আলোর ব্যাপারটা। রাফি ভাই বললেন আগের নাথিং ফোন থ্রিতেও ছিল, কিন্তু ফোর-এতে আরো উন্নত হইছে।

আমার মনে হয় নাথিং ফোন যারা বানায় তারা অনেক বুদ্ধিমান। কারণ অন্য ফোনে এরকম আলো কেউ দেয়নি। এটা একটা নতুন আইডিয়া। আমার বাবা বলেন নতুন আইডিয়া যে দেয় সেই বড় হয়।

তাহলে নাথিং ফোনের লোকেরা অনেক বড় হয়ে গেছেন। রাফি ভাই বলল কোম্পানিটা ইন্ডিয়ার না, বাইরের। ইউরোপে নাকি। আমি জানি না ঠিক কোথায় কিন্তু।

দাম আর আব্বুকে বলা

রাফি ভাই বলল এই ফোনের দাম বাংলাদেশে প্রায় পঁচিশ বা ত্রিশ হাজার টাকার মতো। আমি আব্বুকে বললাম। আব্বু হাসলেন। বললেন পড়ালেখা ভালো করলে পরে দেখা যাবে। মানে না বলেননি কিন্তু হ্যাঁও বলেননি।

আমার মন একটু খারাপ হয়ে গেলো। আমাদের বাসায় আব্বুর একটা পুরানো ফোন আছে। সেটা দিয়ে কাজ চলে কিন্তু আলো জ্বলে না পিছনে।

আর ছবিও ঘোলা আসে। আব্বু অনেক কষ্ট করেন। রোজ সকালে উঠে অফিস যান। আমি জানি। তাই বেশি কিছু বলিনি। মনে মনে ভাবলাম বড় হয়ে নিজে কিনবো।

তামিম বলল সে তার মামাকে বলবে কিনে দিতে। তামিমের মামা অনেক ধনী নাকি। কিন্তু মামারা সব সময় কিনে দেয় না। আমার মামাও দেয় না সহজে। ঈদে একবার দিয়েছিলেন একটা খেলনা।

আমি একদিন ইউটিউবে এই ফোনের ভিডিও দেখলাম। একজন ভিডিও বানাইছে বাংলায়। অনেক সুন্দর করে দেখাইছে। সেই ভিডিওতে দেখলাম আলোগুলো কিভাবে কাস্টমাইজ করা যায়। মানে নিজে ঠিক করে দেওয়া যায়।

এটা আরো ভালো লাগলো আমার কাছে। রুহান বলল আমাদের বাসায় এলে ভিডিওটা একসাথে দেখবো। কিন্তু রুহান প্রতিদিন বলে আসবো আসবো আর আসে না।

ফোনের ভেতরের জিনিস

রাফি ভাই বলল ভেতরে স্ন্যাপড্রাগন মানে কি একটা প্রসেসর আছে। এটা অনেক দ্রুত কাজ করে। গেম খেলতে ল্যাগ হয় না মোটেও। আমি গেম খেলতে চাইলাম।

রাফি ভাই একটা শুটিং গেম খুলে দিলেন। এক্কেবারে সুরসুরে চললো! একটুও আটকায়নি। আমার বাসায় যে ট্যাবলেটটা আছে সেটায় গেম খেললে মাঝে মাঝে হ্যাং করে। কিন্তু এই ফোনে না। আমি পাঁচ মিনিট খেললাম। রাফি ভাই বললেন এইবার দাও।

ব্যাটারিও নাকি অনেক বড়। ৫০০০ এমএএইচ বা এরকম কিছু। একদিন একরাত চলে নাকি চার্জ না দিয়েও। আমি জিজ্ঞেস করলাম সত্যি? রাফি ভাই বললেন হ্যাঁ, তবে গেম খেললে একটু কম চলবে।

এটা স্বাভাবিক মনে হয়। চার্জ দেওয়াও দ্রুত হয়। মানে চার্জার লাগালে অল্প সময়েই অনেকটা চার্জ হয়ে যায়। রাফি ভাই বলল ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং। এত্ত বড় সংখ্যার মানে বুঝি না কিন্তু দ্রুত চার্জ হলেই হলো আমার কাছে।

আমাদের পুরানো চার্জারে অনেক সময় লাগে। ঘুম থেকে উঠেও দেখা যায় চার্জ হয়নি। আমার মনে আছে একবার আব্বুর ফোনে ভিডিও দেখতে দেখতে চার্জ শেষ হয়ে গেল।

তারপর আব্বু রেগে গেলেন। এই ফোনের ব্যাটারি থাকলে সেটা হতো না। তামিম বলে ওরও এরকম হয়। ওদের বাসার ট্যাবলেটে চার্জ শেষ হয় তাড়াতাড়ি।

স্ক্রিনের কথা

স্ক্রিনটাও অনেক সুন্দর। রঙ একদম ঝকঝকে। ভিডিও দেখলে মনে হয় ছবির ভেতরে ঢুকে গেছি। রাফি ভাই একটা কার্টুন ছেড়ে দিলেন। আমি অনেকক্ষণ দেখলাম।

রাফি ভাই বললেন সরো, বসে থেকো না। আমি বললাম আরেকটু। তারপর রাফি ভাই ফোন নিয়ে নিলেন। একটু মন খারাপ হলো। কিন্তু উনি কি করবেন, ওনার ফোন।

স্ক্রিনের রিফ্রেশ রেট নাকি ১২০ হার্জ। মানে স্ক্রোল করলে একদম মসৃণ লাগে। আমি বারবার উপর নিচ করলাম। সত্যিই অনেক মসৃণ। মনে হয় কাচের উপর মাখনের মতো আঙুল বোলাচ্ছি।

সামনের ক্যামেরাও আছে। সেলফি তুললাম একটা। অনেক পরিষ্কার আসছে। আমার মুখের সব দেখা যাচ্ছে। একটু বেশি দেখা যাচ্ছে হয়তো কিন্তু সেটা ক্যামেরার দোষ না।

ফোনটা একটু পাতলা। মানে মোটা না। হাতে নিলে মনে হয় হালকা। রাফি ভাই বলল ওজন কম এই ফোনের। ভারী ফোন হাতে ধরতে কষ্ট হয়। কিন্তু এটা ধরলে কষ্ট হয় না।

আমি অনেকক্ষণ ধরে ছিলাম। রাফি ভাই বললেন এইবার রেখে দাও। আমি ধরেই থাকতাম কিন্তু রেখে দিলাম। ফোনটা দেখতে শুধু সুন্দর না, ব্যবহার করতেও মজা লাগে। যেন খেলনা না, কিন্তু খেলনার মতো মজা।

শেষ কথা

আমার কাছে মনে হয় এই ফোনটা অনেক ভালো ফোন। শুধু পিছনের আলোর জন্য না। সব কিছু মিলিয়ে। ক্যামেরা ভালো, গেম ভালো চলে, ব্যাটারি ভালো, দেখতেও সুন্দর।

আমি যদি বড় হই তাহলে প্রথম ফোন এটাই কিনবো। অথবা তখন নাথিং ফোন সেভেন বা আটও বের হবে হয়তো তারপরে। দেখা যাক।

তামিম বলল সে পাবজি খেলবে এই ফোনে। কিন্তু তামিমের তো ফোনই নেই। আমরা দুজনই শুধু দেখতে পারি। রাফি ভাই খুব ভালো মানুষ। দেখতে দেন অন্তত। আব্বু যদি একটা কিনে দিতেন! কিন্তু জানি পারবেন না এখন।

পরে হয়তো দেবেন। নাথিং ফোন ফোর-এ সত্যিই অনেক অনেক ভালো একটা ফোন, এটুকু আমি নিশ্চিত বলতে পারবো। আর ফোনে নেটও ভালো চলে।

রাফি ভাই বললেন ফাইভজি সাপোর্ট আছে। মানে ইন্টারনেট অনেক দ্রুত চলবে। বাংলাদেশে এখন ফাইভজি আছে কিনা জানি না পুরোপুরি কিন্তু ভবিষ্যতে কাজে লাগবে নিশ্চয়ই।

আমি ভাবছি বড় হয়ে ফোন রিভিউ করবো ইউটিউবে। রাফি ভাইয়ের মতো নতুন নতুন ফোন দেখবো। তখন অনেক ফোন পাবো দেখার জন্য। এখন তো শুধু রাফি ভাইয়ের ফোন দেখতে পাই।