Motion Detector Alarm | চুরি ঠেকানোর যন্ত্র বানালাম মাত্র কয়েকটা তার দিয়ে

Motion Detector Alarm

আমাদের স্কুলে একদিন স্যার একটা ছোট বাক্স নিয়ে আসলেন। বাক্সের ভেতরে অনেক তার আর একটা সবুজ বোর্ড। স্যার বললেন আজকে একটা মজার জিনিস দেখাবেন। আমরা সবাই বেঞ্চে উঠে দেখার চেষ্টা করলাম। রহিম পিছন থেকে মাথা বাড়ালো। করিম জানালার কাছে দাঁড়িয়ে গেল। আমি একদম সামনে বসি তাই ভালো দেখতে পাইছিলাম।

স্যার বললেন এইটা দিয়ে অ্যালার্ম বানানো যায়। কেউ কাছে আসলেই বাজবে! আমি তো অবাক হয়ে গেলাম।

এইটা কিভাবে কাজ করে

স্যার বোঝাতে শুরু করলেন। বললেন একটা সেন্সর থাকে। সেইটার নাম PIR Sensor। এইটা মানুষের শরীরের গরম বুঝতে পারে। মানুষ কাছে আসলে শরীর থেকে গরম বের হয়। সেন্সর সেইটা ধরে ফেলে।

তারপর আর্ডুইনোকে বলে দেয়। আর্ডুইনো তখন বাজার বাজায়। এইভাবেই অ্যালার্ম কাজ করে।

স্যার বললেন রাতে কেউ চুরি করতে আসলে এইটা বাজবে। আমাদের পাশের গ্রামে গত মাসে চুরি হইছিল। তখন করিম বলে উঠলো স্যার ওই বাড়িতে যদি এইটা থাকতো তাহলে চুরি হইতো না! স্যার হেসে বললেন একদম ঠিক কথা।

আমার কাছে মনে হয় এইটা অনেক কাজের জিনিস।

কি কি লাগবে

স্যার বললেন বেশি কিছু লাগে না। Arduino Uno লাগবে। এইটা ওই সবুজ বোর্ড। PIR Sensor লাগবে। এইটা মানুষ ধরে। Buzzer লাগবে। এইটা বাজে। ব্রেডবোর্ড লাগবে। জাম্পার তার লাগবে। আর USB কেবল।

রহিম জিজ্ঞেস করলো স্যার দাম কত? স্যার বললেন সব মিলিয়ে এক হাজার টাকার মধ্যে হয়ে যাবে। রহিম মুখ ভার করলো। বললো তার কাছে এত টাকা নাই। স্যার বললেন একসাথে কয়েকজন মিলে কিনলে কম পড়বে। তখন সবাই একটু খুশি হলো।

স্যার আরেকটা কথা বললেন। জাম্পার তার ভালো কিনতে হবে। পুরোনো তার ঢিলা হয়ে যায়। তখন কাজ করে না। আর ব্রেডবোর্ডও পুরোনো হলে সমস্যা হয়।

সার্কিট কিভাবে লাগাবো

স্যার বললেন সার্কিট শুনলে ভয় লাগে। কিন্তু আসলে ভয়ের কিছু নাই। তিনটা কানেকশনই লাগবে।

PIR Sensor এর তিনটা পা আছে। একটা পা আর্ডুইনোর 5V তে লাগাবো। একটা পা D2 পিনে লাগাবো। আরেকটা পা GND তে লাগাবো।

Buzzer এর পজিটিভ পা D9 পিনে লাগাবো। নেগেটিভ পা GND তে লাগাবো।

স্যার বললেন লাল তার মানে পজিটিভ। কালো তার মানে নেগেটিভ। এইটা মনে রাখলে অনেক ভুল কমে যাবে।

একটা কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার যেন একে অপরের গায়ে না লাগে। লাগলে শর্ট সার্কিট হবে। বোর্ড নষ্ট হতে পারে। স্যার বললেন কাজ শেষ হলে ৩০ সেকেন্ড চোখ বুলিয়ে দেখবে সব ঠিক আছে কিনা। তারপর বিদ্যুৎ দেবে।

আমাদের ক্লাসের মিতু একটু ভয় পাচ্ছিল। স্যার বললেন এইটা ৫ ভোল্টে চলে। ভয়ের কিছু নাই।

কোড কিভাবে লিখবো

স্যার বললেন কোড মানেই কঠিন এই ধারণা ভুল। এই প্রজেক্টের কোড অনেক ছোট।

কোডে বলা থাকে সেন্সর পিন ২ নম্বরে। বাজার পিন ৯ নম্বরে। setup() এ বলা থাকে সেন্সর ইনপুট আর বাজার আউটপুট। loop() এ বলা থাকে সেন্সর HIGH হলে বাজার বাজাও। তিন সেকেন্ড বাজাও। তারপর বন্ধ করো।

স্যার বললেন HIGH মানে সেন্সর কাউকে দেখছে। LOW মানে কেউ নাই।

করিম জিজ্ঞেস করলো স্যার তিন সেকেন্ড বেশি না? স্যার বললেন delay(3000) এর জায়গায় বড় সংখ্যা দিলে বেশিক্ষণ বাজবে। ছোট দিলে কম বাজবে। নিজে নিজে বদলে দেখো। করিম মাথা নাড়লো।

আমার কাছে মনে হয় এইটা বোঝা অনেক সহজ।

কোড আপলোড করবো কিভাবে

Arduino IDE নামাতে হবে। এইটা ফ্রি। arduino.cc তে পাওয়া যায়।

তারপর কোড লিখতে হবে। Tools থেকে বোর্ড সিলেক্ট করতে হবে। Port সিলেক্ট করতে হবে। তারপর Upload বাটন চাপতে হবে।

স্যার বললেন Port সিলেক্ট না করলে কিছু হবে না। এইটা সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। রহিম বললো সে এই ভুল করবে না। স্যার হাসলেন।

Done uploading দেখালে বুঝবো হয়ে গেছে।

সেন্সর কিভাবে পরীক্ষা করবো

বিদ্যুৎ দেওয়ার পর সেন্সরকে একটু সময় দিতে হবে। প্রায় ৩০ সেকেন্ড। এই সময় সেন্সর আশপাশের তাপমাত্রা মাপে। নিজেকে ঠিক করে নেয়।

তারপর হাত নাড়ালেই বাজার বাজবে।

স্যার হাত নাড়ালেন। বাজার বাজলো! আমরা সবাই হাততালি দিলাম! মিতু একটু লাফ দিয়ে উঠলো। রহিম বললো ওয়াও!

আমাদের ক্লাসে সেই দিন অনেক মজা হইছিল।

সমস্যা হলে কি করবো

স্যার বললেন সমস্যা হবেই। ভয় নাই।

বাজার না বাজলে প্রথমে তার চেক করো। ঢিলা তার সবচেয়ে বেশি সমস্যা করে। GND লাগানো আছে কিনা দেখো। Port সিলেক্ট করা আছে কিনা দেখো।

সেন্সর মাঝে মাঝে ভুল সিগন্যাল দেয়। বাতাস গরম হলে বা রোদ পড়লে। তাই সেন্সর জানালার কাছে না রাখাই ভালো।

স্যার বললেন সেন্সরের পেছনে দুইটা ছোট নব আছে। ওইটা ঘুরিয়ে সেন্সর কতটা দূরে দেখবে আর কতক্ষণ বাজবে সেইটা ঠিক করা যায়।

করিম একবার নব ঘুরালো। বাজার আরো বেশিক্ষণ বাজলো। সে খুশি হয়ে গেল!

এইটা কোথায় লাগানো যাবে

স্যার বললেন অনেক জায়গায় লাগানো যাবে। বাড়ির দরজায় লাগালে রাতে কেউ আসলে বাজবে। দোকানে লাগালে চুরি ঠেকানো যাবে। স্টোররুমে লাগালে।

রহিম বললো স্যার আমাদের স্কুলের মাঠের গেটে লাগালে কেউ রাতে ঢুকতে পারবে না! স্যার বললেন অসাধারণ আইডিয়া!

PIR Sensor ৫ থেকে ৭ মিটার দূর পর্যন্ত মানুষ ধরতে পারে। আমি মাপলাম। এইটা প্রায় আমাদের পুরো ক্লাসরুম জুড়ে!

আরো বড় করা যাবে

স্যার বললেন এইটা আরো বড় করা যাবে। WiFi লাগালে মোবাইলে মেসেজ আসবে। তখন বাড়িতে না থাকলেও জানতে পারবো।

আমি ভাবলাম বড় হলে এইটা বানাবো। মামার দোকানে লাগিয়ে দেবো। মামা অনেক খুশি হবে।

শেষে বলি

সেইদিন স্কুল ছুটির পরেও আমরা অনেকক্ষণ থেকে গেছিলাম। বাজার বাজানো দেখছিলাম। হাত নাড়াচ্ছিলাম। বাজার বাজছিল। অনেক অনেক মজা লাগছিল।

বাড়ি ফেরার সময় রহিম বললো সে টাকা জমাবে। এইটা কিনবে। মিতু বললো সেও কিনবে। আমিও মনে মনে ঠিক করলাম একদিন বানাবোই।

তাই আমার মনে হয় সবার এই মজার প্রজেক্ট একবার করে দেখা উচিত!