বায়োফ্লক কতদিনে মাছ দেয়? ৬০ দিন নাকি ১০০ দিনে?

গত পোস্টের পর থেকে একটা প্রশ্ন বারবার আসছে ইনবক্সে। কই না শিং, কোনটা ভালো — সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম, কিন্তু তার পাশেই আরেকটা প্রশ্ন ঘুরছিল অনেকের মনে। একজন লিখেছেন, “নাজমুল ভাই, মাছ চাষ শুরু করলে কতদিনে বিক্রি করতে পারব?” আরেকজন আরেকটু সরাসরি জিজ্ঞেস করেছেন, “তিন মাসে কি মাছ পাওয়া যায়?”

এই প্রশ্নটা আমার নিজেরও ছিল একসময়। শুরু করার আগে মনে মনে হিসাব করেছিলাম, দুই মাসেই বোধহয় মাছ তোলা যাবে। সেই হিসাব কতটা ভুল ছিল, সেটা পরে টের পেয়েছি। আজকের পোস্টে সেই ভুলের গল্পসহ বলব — বায়োফ্লকে আসলে কতদিনে মাছ হাতে পাবেন, আর সেই সময়টায় ট্যাংকের ভেতরে আসলে কী কী ঘটে।

পোনা ছাড়ার আগেই যে সময়টা যায়

বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন, ট্যাংক বানিয়ে পানি ভরে পোনা ছেড়ে দিলেই কাজ শুরু। কিন্তু বায়োফ্লকের আসল ঘড়িটা চালু হয় তারও কয়েকদিন আগে।

ট্যাংকে পানি ভরার পর সরাসরি পোনা ছাড়া যায় না। পানিতে আগে একটা পরিবেশ তৈরি করতে হয়, যেখানে উপকারী জীবাণু বাড়তে পারে।

এই জীবাণুগুলোই বায়োফ্লকের প্রাণ, এরাই মাছের মলমূত্র খেয়ে পানি পরিষ্কার রাখে, আর নিজেরাও মাছের খাবার হয়। এদের তৈরি করতে চিটাগুড় আর প্রোবায়োটিক দিতে হয়, তারপর এয়ার পাম্প চালিয়ে অপেক্ষা করতে হয়।

এই প্রস্তুতির পর্বটা তিন থেকে পাঁচ দিনের। মানে ট্যাংক বসানোর দিন থেকে পোনা ছাড়া পর্যন্ত একটা অপেক্ষা। প্রথমবার আমি এটা জানতাম না। পানি ভরার পরদিনই পোনা ছেড়ে দিয়েছিলাম, কারণ মনে হয়েছিল দেরি করলে আরও সময় যাবে।

পরে বুঝেছিলাম, সেটা ছিল মারাত্মক একটা ভুল। পানি প্রস্তুত না হলে পোনা পানিতে পড়ে চাপ সামলাতে পারে না, দুর্বল হয়ে মরতে শুরু করে। সেই প্রথম চক্রে অনেক পোনা মরে গিয়েছিল, আর আমি বুঝতেই পারিনি কেন।

পানি ঠিকমতো প্রস্তুত হয়েছে কিনা বোঝার একটা সহজ লক্ষণ আছে। পানির রং একটু সবজেটে বা বাদামি হলুদ হয়ে গেলে, আর ওপরে সামান্য ফেনা দেখা গেলে, বুঝবেন জীবাণু তৈরি হচ্ছে। তখন পোনা ছাড়া নিরাপদ।

প্রথম মাস — সবচেয়ে ধৈর্যের সময়

পোনা ছাড়ার প্রথম মাসটা মাছ চাষির কাছে সবচেয়ে কঠিন সময়। কারণ এই মাসে মাছ দেখেই বোঝা যায় না বড় হচ্ছে কিনা। পোনা ছোট থাকে, ট্যাংকে ছেড়ে দিলে পানিতে মিশে যায়, চোখে ধরা যায় না। প্রতিদিন সকালে উঠে ট্যাংকের দিকে তাকিয়ে থাকি, কিছুই বোঝা যায় না।

আমি প্রথম চক্রে প্রতিদিন হাত দিয়ে পোনা ধরার চেষ্টা করতাম, দেখতে চাইতাম বড় হচ্ছে কিনা। এই হাত দেওয়াটা মাছের জন্য ক্ষতিকর, কারণ মাছ ভয় পায়, চাপে পড়ে, খাওয়া কমিয়ে দেয়।

একদিন আব্বা দেখে বললেন, “ধান পাকার আগে হাত দিলে কি পাকে তাড়াতাড়ি?” সেই একটা কথাতেই মাথা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।

এই মাসে মাছ মূলত নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। শরীরে শক্তি বাড়াচ্ছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করছে। দিনে দুইবার খাবার দিন, পানির রং দেখুন, অ্যামোনিয়া মাপুন, বাকি সময় ধৈর্য ধরুন।

প্রথম মাসে মাছের মৃত্যুহার একটু বেশি থাকতে পারে, এটা স্বাভাবিক। দুই-তিনটা মরে গেলে আতঙ্কিত হবেন না, মনে রাখুন একটু ছাঁটাই হলে বাকিগুলো বেশি জায়গা পায় বড় হতে।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমি এখনো একবার ট্যাংকের পাশে দাঁড়াই, এয়ার পাম্পের গুনগুন শব্দ শুনি। প্রথম চক্রে সেই রাতগুলোয় বুকে একটা অস্থিরতা ছিল, মাছ ঠিক আছে তো?

পানির রং একটু বদলেছে না? এই অস্থিরতাটাই আসলে নতুন চাষির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, অস্থিরতা দিয়ে মাছ বড় হয় না, নিয়ম মানলে হয়।

দ্বিতীয় মাস — মাছ বাড়তে শুরু করে

দ্বিতীয় মাসে এসে ট্যাংকের দিকে তাকালে একটু আলাদা অনুভূতি হয়। মাছগুলো এবার চোখে পড়তে শুরু করে। খাবার দিলে ওপরে উঠে আসে, ছপছপ শব্দ করে। এই দৃশ্যটা প্রথমবার দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।

আব্বাকে একদিন ডাকলাম, দেখাতে চাইলাম মাছ খাচ্ছে। তিনি প্রথমবার ট্যাংকের কাছে এসে চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখলেন কয়েক মিনিট, তারপর বললেন, “বড় হচ্ছে মনে হচ্ছে।” এটুকুই, কিন্তু সেই কটা কথা সেদিন অনেক কিছু বলে গিয়েছিল।

এই মাসে মাছ দ্রুত বাড়তে থাকে, বিশেষ করে তেলাপিয়া। কই একটু ধীরে বাড়ে, কিন্তু সে তুলনায় বেশি শক্তপোক্ত থাকে। দ্বিতীয় মাস থেকে খাবারের পরিমাণ একটু বাড়ানো যায়, কারণ মাছের শরীর এখন বেশি শক্তি দাবি করছে।

একটা সাবধানতা, এই সময়ে পানির অ্যামোনিয়া বাড়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ মাছ বেশি খাচ্ছে, মানে বেশি মলত্যাগ করছে। পানি পরীক্ষা সপ্তাহে দুইবার করুন। অ্যামোনিয়া বেড়ে গেলে চিটাগুড় দিন, কারণ চিটাগুড় জীবাণুকে সক্রিয় করে, জীবাণু অ্যামোনিয়া খেয়ে পানি পরিষ্কার রাখে।

তৃতীয় থেকে চতুর্থ মাস — মাছ বড় হওয়ার মূল পর্ব

তৃতীয় মাস থেকে মাছের বৃদ্ধি চোখে দেখা যায়। প্রতি সপ্তাহে কয়েকটা মাছ তুলে মাপলে বোঝা যায় কতটা বেড়েছে। এই সময়টায় খাবারের খরচও সবচেয়ে বেশি হয়, কারণ বড় মাছ বেশি খায়।

আমি একটা ছোট কাজ করি, প্রতি দুই সপ্তাহে একবার একটা বাটিতে পানি নিয়ে কয়েকটা মাছ ধরে রান্নাঘরের পুরনো দাঁড়িপাল্লায় মেপে দেখি। সংখ্যাটা লিখে রাখি এক টুকরো কাগজে। এই কাজটা মাঝে মাঝে মনকে আশাবাদী রাখে, কারণ কাগজের সংখ্যা বাড়তে দেখলে বুঝি এগোচ্ছি।

তেলাপিয়া সাধারণত পঞ্চম মাসের মাঝামাঝি বিক্রির মতো সাইজে পৌঁছে যায়, কখনো একটু আগেও। কই একটু বেশি সময় নেয়, চার থেকে পাঁচ মাস।

শিং আর মাগুর ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারে, কারণ এরা স্বভাবতই একটু ধীরে বাড়ে। এই কারণেই শিং-মাগুরের দাম বেশি, চাষিকে বেশি সময় ধরে পরিশ্রম করতে হয়।

আমার দ্বিতীয় চক্রে কইয়ের মাছ চার মাসে বিক্রির উপযোগী হয়েছিল। প্রতিটা মাছ গড়ে একশো গ্রামের ওপরে উঠে গিয়েছিল, হাটে ভালো দাম পেয়েছিলাম। সেই মুহূর্তটার কথা এখনও মনে পড়লে ভালো লাগে।

প্রজাতি অনুযায়ী সময়ের হিসাব

কতদিনে মাছ পাবেন, সেটা অনেকটা নির্ভর করে কোন মাছ চাষ করছেন তার ওপর। সবার জন্য এক হিসাব না।

তেলাপিয়া সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে, পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়। কই চার থেকে পাঁচ মাস। শিং ছয় থেকে আট মাস। মাগুরও প্রায় একই সময়। পাবদা সবচেয়ে ধীর, আট থেকে দশ মাসও লেগে যেতে পারে।

এই সময়গুলো আনুমানিক। বাস্তবে কত তাড়াতাড়ি বড় হবে সেটা নির্ভর করে পানির গুণ কতটা ঠিক ছিল, খাবার ঠিকমতো দেওয়া হয়েছিল কিনা, পানির তাপমাত্রা কেমন ছিল, আর পোনার মান শুরুতে কেমন ছিল তার ওপর।

শীতকালে একটু সতর্ক থাকতে হয়। ঠান্ডায় মাছের বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, কম খায়, ধীরে বাড়ে। শীতে শুরু করলে একটু বেশি সময় দিতে হতে পারে। আমার একটা চক্র একদম শীতের শুরুতে পড়েছিল, সেবার মাছ বড় হতে প্রায় এক মাস বেশি লেগে গিয়েছিল।

আমার সবচেয়ে বড় ভুল

প্রথম চক্রে একটা ভুল করেছিলাম যেটা বলা দরকার, কারণ অনেকেই এই ভুলে পড়েন। চার মাস পার হওয়ার আগেই মনে হচ্ছিল মাছ অনেক বড় হয়ে গেছে। আশেপাশের লোকজনও বলছিল, “উঠাও না, আর কত অপেক্ষা করবে?” আমিও তাড়াহুড়া করে মাছ তুলে ফেললাম।

হাটে গিয়ে দেখলাম মাছগুলো আসলে তেমন বড় হয়নি। গড়ে সত্তর থেকে আশি গ্রামের বেশি না। এই সাইজে দাম কম পড়ে, কারণ ক্রেতারা একটু বড় মাছ পছন্দ করেন। আরেক মাস রাখলে মাছ একশো থেকে একশো বিশ গ্রামে পৌঁছাত, সেই সাইজে দাম প্রায় পনেরো থেকে বিশ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়।

সেই এক মাসের খাবার খরচ হয়তো আরও দুই হাজার টাকা বেশি হতো, কিন্তু বাড়তি দাম থেকে চার-পাঁচ হাজার টাকা বেশি পেতাম। তাড়াহুড়ায় সেই পার্থক্যটা নষ্ট হয়ে গেল।

এরপর থেকে মাছের সাইজ কানা দিয়ে একটু মাপার অভ্যাস করেছি। একশো গ্রামের কাছাকাছি না আসা পর্যন্ত তুলি না। আর বিক্রির অন্তত একমাস আগে থেকে মনে মনে পরিকল্পনা করি, যাতে রমজান বা অন্য কোনো ভালো সময়ে বিক্রি করা যায়।

মাছ ধীরে বড় হলে কী করবেন

অনেক সময় চার মাস পার হয়েও মনে হয় মাছ যেন আটকে গেছে, বাড়ছেই না। এটা হয় সাধারণত কয়েকটা কারণে।

প্রথম কারণ হলো পানির অ্যামোনিয়া বেশি। বেশি অ্যামোনিয়ায় মাছ অসুস্থ হয়, খাওয়া কমিয়ে দেয়। পানি পরীক্ষা করুন, বেশি থাকলে চিটাগুড় দিন, প্রয়োজনে পানির কিছু অংশ বদলে দিন।

দ্বিতীয় কারণ হলো খাবার কম। মাছ যতই বড় হয়, ততই বেশি খাবার দরকার। প্রথম মাসে যে পরিমাণ দিচ্ছিলেন, চতুর্থ মাসেও সেটাই দিলে মাছ পেট ভরে খেতে পারে না। প্রতি মাসে খাবারের পরিমাণ একটু বাড়ান।

তৃতীয় কারণ হলো ট্যাংকে মাছের ঘনত্ব বেশি। অনেক মাছ একসাথে থাকলে তারা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় পড়ে, সব মাছ সমানভাবে খাবার পায় না।

কিছু মাছ বড় হয়, বাকিগুলো পিছিয়ে পড়ে। বড় মাছগুলো একটু আগেভাগে তুলে ফেললে বাকিগুলো আরও জায়গা পেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে।

চতুর্থ কারণ হলো শীতের প্রভাব, সেটা আগেই বলেছি। ঠান্ডা পড়লে মাছ ধীরে বাড়বেই, এটা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করাই ভালো।

আমার তৃতীয় চক্রে একবার মনে হয়েছিল মাছ থেমে গেছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ মাপছি, ওজন বাড়ছে না। শেষে পানি পরীক্ষা করে দেখলাম অ্যামোনিয়া স্বাভাবিকের দ্বিগুণের বেশি। খাবার বেশি দিচ্ছিলাম, মাছ সব খেতে পারছিল না, বাকিটা পানিতে পচে অ্যামোনিয়া তৈরি হচ্ছিল।

সেদিন থেকে নিয়ম করলাম, খাবার দেওয়ার পনেরো মিনিট পর যদি তলায় খাবার পড়ে থাকে, তাহলে পরের বার পরিমাণ কমাব। এই ছোট নিয়মটাই সেই চক্রটাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল।

বিক্রির উপযুক্ত সময় বোঝার উপায়

কখন মাছ তুলবেন সেটা বোঝার কয়েকটা সহজ পদ্ধতি আছে।

প্রথমত, হাত দিয়ে কয়েকটা মাছ ধরে দেখুন। যদি মাছ হাতের মুঠোয় ভালোভাবে ধরা না যায়, অর্থাৎ অনেক ছোট মনে হয়, তাহলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করুন।

দ্বিতীয়ত, বাজারে একবার ঘুরে আসুন। সেদিন যে সাইজের মাছ বিক্রি হচ্ছে, সেই সাইজের কাছাকাছি আপনার মাছ এলে তুলুন। আমি হাটের দিনগুলোয় একবার ঘুরে আসি, দেখি কোন মাছ কোন দামে বিকোচ্ছে। শুধু দাম না, ক্রেতারা কোন সাইজ বেশি নিচ্ছে সেটাও খেয়াল রাখি। ছোট মাছ নিতে অনেকেই আগ্রহ দেখান না, বড় মাছেই বেশি ভিড়।

তৃতীয়ত, মৌসুম দেখুন। আমি গত পোস্টে বলেছিলাম, রমজানের আগে মাছের দাম বাড়ে। শীতে বাজারে মাছ কম থাকায় দাম একটু চড়ে। সেই সময়টা বেছে নিতে পারলে একই মাছে বেশি টাকা পাওয়া যায়। এই ছোট হিসাবটা যে করতে পারবে, বায়োফ্লকে তার লাভের হার অনেক ভালো থাকবে।

চক্রের পুরো সময়সীমা এক নজরে

পুরো বিষয়টা মাথায় রাখতে একটু গুছিয়ে বলি।

ট্যাংক বসানো থেকে পানি প্রস্তুত করতে লাগে তিন থেকে পাঁচ দিন। পোনা ছাড়ার পর প্রথম মাস খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর্ব, দ্বিতীয় মাস থেকে বাড়তে শুরু করে, তৃতীয় আর চতুর্থ মাসে মূল বৃদ্ধি হয়। তেলাপিয়া পাঁচ থেকে ছয় মাসে তোলার উপযুক্ত, কই চার থেকে পাঁচ মাসে, শিং বা মাগুর ছয় থেকে আট মাসে।

মানে সবচেয়ে কম সময়ে মাছ পেতে চাইলে তেলাপিয়া বা কই, আর বেশি দামের মাছের জন্য বেশি ধৈর্য ধরতে হবে।

এই পুরো সময়টা অনেকটা ধানের মাঠের মতো। বীজ বুনে দিলেন, তারপর শুধু নিয়মিত পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা, আর অপেক্ষা। যে কৃষক মাঝপথে ঘাবড়ে গিয়ে অপক্ক ধান কেটে নেয়, সে কম পায়। বায়োফ্লকেও ঠিক এটাই।

সময়ের হিসাবটা একবার ক্যালেন্ডারে লিখে দেখুন। আজ শুরু করলে পাঁচ মাস পরের তারিখটা কত? সেই দিনটা চিহ্নিত করুন, আর সেই দিনটার দিকে এগিয়ে যান একটু একটু করে। মাঝে মাঝে মনে হবে সময় যাচ্ছে না, কিন্তু ক্যালেন্ডারের দিকে তাকালে দেখবেন প্রতিদিন একটু একটু করে এগোচ্ছেন।

আজকের পোস্ট পড়ে যদি মনে হয়, সময়টা বেশি মনে হচ্ছে — তাহলে একবার ভাবুন, একটা নিয়মিত চাকরিতে মাসে কত পান? বায়োফ্লকে পাঁচ মাস পর যদি মোটামুটি একটা মাসের বেতনের সমান লাভ আসে, সেটাও কি খারাপ? আর একবার সেটাপ হয়ে গেলে পরের চক্র থেকে সময় কমে আসে, অভিজ্ঞতা বাড়লে ভুলও কমে।

সময় লাগবে। ধৈর্য ধরুন। যে ট্যাংকটা আজ খালি মনে হচ্ছে, পাঁচ মাস পর সেটাই আপনার হাতে কিছু টাকা দিয়ে যাবে।

আপনার মাছ কত মাসে তোলার পরিকল্পনা করছেন, নিচে জানাতে পারেন।